নয়াদিল্লি ও কলকাতা: রাজনীতির চাকা ঘোরে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় বন্ধুত্বের সমীকরণও। তবে, শেখ হাসিনা ও শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি যেন একটু বেশিই আবেগের। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যখন দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন হাসিনা, তখন বাংলার মাটি থেকে তাঁর হয়ে সওয়াল করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ সেই শুভেন্দুই যখন পশ্চিমবঙ্গের মসনদে, তখন কৃতজ্ঞতা জানাতে এক মুহূর্ত দেরি করলেন না বঙ্গবন্ধু-কন্যা।
ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের প্যাডে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি ও জয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তবে, এই বিবৃতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া বিশেষ বার্তা। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন জননেত্রী।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যখন হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। তখন শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে অন্যায়ভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই বাংলাদেশে ফিরবেন।” গত দুই বছরে ওপার বাংলায় ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু, হাসিনার প্রতি শুভেন্দুর সমর্থনে কোনও ভাটা পড়েনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসিনা যখন নিজ দেশে কোণঠাসা এবং তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়াদিল্লির উপর চাপ বাড়ছে, তখন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর উত্থান তাঁর জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এই শুভেচ্ছাবার্তা কেবল সৌজন্য নয়, বরং দুর্দিনের বন্ধুর প্রতি এক গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ে বসে হাসিনা যেভাবে নাম করে শুভেন্দুকে অভিনন্দন জানালেন, তাতে দুই বাংলার আগামীর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন