Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কোষাগার কি শূন্য? যাওয়ার আগে বাংলার ঘাড়ে কত টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেল বিদায়ী সরকার?

কোষাগার কি শূন্য? যাওয়ার আগে বাংলার ঘাড়ে কত টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেল বিদায়ী সরকার?
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: বঙ্গে ক্ষমতার হাতবদল হতেই এবার বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত দেড় দশক ধরে বাম আমলের ঋণের কথা বারেবারে শোনা গিয়েছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। কিন্তু এবার পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের সামনে যে পাহাড়প্রমাণ আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ওয়াকিবহাল মহলের। পরিসংখ্যান বলছে, বিদায়ী তৃণমূল সরকার রাজ্যের ঘাড়ে প্রায় ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। নতুন সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই বিপুল দেনা সামলে উন্নয়নের চাকা ঘুরবে কোন পথে?


শুধু ঋণের অঙ্ক নয়, রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগের চিত্রটিও বেশ উদ্বেগজনক। ঘটা করে বিজনেস সামিট বা বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের মোট বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ০.৬ শতাংশ এসেছে বাংলায়। উল্টোদিকে, রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ছোট-বড় শিল্প সংস্থা। এমনকি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে রয়েছে রেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। রেলের প্রয়োজনীয় ৪,৫৬৪ হেক্টর জমির মাত্র ২৭ শতাংশ মেলা সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রের ২৯০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের অর্থ সেভাবে ব্যবহারই করা হয়নি।


সবচেয়ে বড় ক্ষত ধরা পড়েছে কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিসংখ্যানে। গুজরাট, কেরালা বা তামিলনাড়ুর মতো ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে বাংলা ছাড়ার হিড়িক বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারি হিসেবে সংখ্যাটা ২২ লক্ষ হলেও বেসরকারি মতে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আজ ভিন রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। দারিদ্র্য মোচনের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জটা পাহাড়প্রমাণ। রঙ্গরাজন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠতে গেলে শহরে দৈনিক ৪৭ টাকা ও গ্রামে ৩২ টাকা খরচ করার সামর্থ্য থাকা প্রয়োজন। এই নড়বড়ে অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নতুন সরকার কতটা মজবুত করতে পারে, নাকি এই পরিসংখ্যান আরও নিম্নমুখী হয়, এখন সেটাই দেখার।



হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : SuvenduAdhikari WestBengalEconomy MamataBanerjee BengalDebt IndustryInBengal EmploymentCrisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


কোষাগার কি শূন্য? যাওয়ার আগে বাংলার ঘাড়ে কত টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেল বিদায়ী সরকার?

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বঙ্গে ক্ষমতার হাতবদল হতেই এবার বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিগত দেড় দশক ধরে বাম আমলের ঋণের কথা বারেবারে শোনা গিয়েছিল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। কিন্তু এবার পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকারের সামনে যে পাহাড়প্রমাণ আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ওয়াকিবহাল মহলের। পরিসংখ্যান বলছে, বিদায়ী তৃণমূল সরকার রাজ্যের ঘাড়ে প্রায় ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। নতুন সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই বিপুল দেনা সামলে উন্নয়নের চাকা ঘুরবে কোন পথে?শুধু ঋণের অঙ্ক নয়, রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগের চিত্রটিও বেশ উদ্বেগজনক। ঘটা করে বিজনেস সামিট বা বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের মোট বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ০.৬ শতাংশ এসেছে বাংলায়। উল্টোদিকে, রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছে প্রায় ৭ হাজার ছোট-বড় শিল্প সংস্থা। এমনকি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে রয়েছে রেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। রেলের প্রয়োজনীয় ৪,৫৬৪ হেক্টর জমির মাত্র ২৭ শতাংশ মেলা সম্ভব হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রের ২৯০০ কোটি টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের অর্থ সেভাবে ব্যবহারই করা হয়নি।সবচেয়ে বড় ক্ষত ধরা পড়েছে কর্মসংস্থান ও পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিসংখ্যানে। গুজরাট, কেরালা বা তামিলনাড়ুর মতো ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে বাংলা ছাড়ার হিড়িক বেড়েছে কয়েক গুণ। সরকারি হিসেবে সংখ্যাটা ২২ লক্ষ হলেও বেসরকারি মতে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আজ ভিন রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। দারিদ্র্য মোচনের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জটা পাহাড়প্রমাণ। রঙ্গরাজন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠতে গেলে শহরে দৈনিক ৪৭ টাকা ও গ্রামে ৩২ টাকা খরচ করার সামর্থ্য থাকা প্রয়োজন। এই নড়বড়ে অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নতুন সরকার কতটা মজবুত করতে পারে, নাকি এই পরিসংখ্যান আরও নিম্নমুখী হয়, এখন সেটাই দেখার।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার