কলকাতা: রাতভর ম্যারাথন জেরার পর এবার আদালতের নির্দেশে ইডি হেফাজতেই যেতে হল রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত সুজিতকে আগামী ২১ মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিতের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক তথ্য পেশ করেছে ইডি।
সোমবার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার আদালতে ইডির আইনজীবীরা দাবি করেন, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথিতে একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন সুজিত। উঠে এসেছে নিতাই দত্ত নামে এক ব্যক্তির নামও। তদন্তকারীদের দাবি, নিয়োগের বিনিময়ে হওয়া লেনদেনের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রীর সরাসরি যোগ রয়েছে।
এদিন আদালতে সুজিত বসুর উপার্জনের উৎস নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সুজিতের মালিকানাধীন একটি রেস্তরাঁ রয়েছে, যা করোনাকালে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, ব্যবসা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেই সময় ওই রেস্তরাঁ থেকে কোটি কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে! পাশাপাশি সুজিত ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা পড়ার কোনও বৈধ কারণ প্রাক্তন মন্ত্রী দেখাতে পারেননি বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।
আদালতে ইডির আইনজীবী সওয়াল করেন, সুজিত বসু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এই অবস্থায় তাঁকে জামিন দিলে তিনি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারেন এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনাও প্রবল। অন্যদিকে সুজিতের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ২০২২ বা ২৩ সালে পাওয়া নথির ভিত্তিতে কেন এখন গ্রেফতার করা হল? যদিও বিচারক দু’পক্ষের সওয়াল শুনে সুজিতকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আপাতত আগামী ১০ দিন সিজিও কমপ্লেক্সের চার দেওয়ালের মধ্যেই কাটবে প্রাক্তন মন্ত্রীর সময়। এই সময়ের মধ্যে অয়ন শীল ও সুজিতকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন