নয়াদিল্লি: সোনার মোহ কি এবার ফিকে হতে চলেছে মধ্যবিত্তের কাছে? সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান দিয়ে সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক একলাফে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে আগে এই শুল্ক ছিল মাত্র ৬ শতাংশ, সেখানে এখন ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টম ডিউটির সাথে ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো সেস যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আমূল বদলে দিয়েছে। সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনা এবং ডেস্টিনেশন ওয়েডিং থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন, আর তার পরেই এই বড় সিদ্ধান্ত কার্যত শোরগোল ফেলে দিয়েছে বাজারে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেট সোনার গ্রাম যেখানে ১৪ হাজার টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, শুল্কের ধাক্কায় তা অনায়াসেই ২০ হাজারের গণ্ডি টপকে যেতে পারে। ফলে ১০ গ্রাম বা এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, সরকারের এই 'আশাতীত' সিদ্ধান্তে গয়নার বাজারে চাহিদাও ব্যাপকভাবে কমবে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে; শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের একাংশ ভয় পাচ্ছেন যে, বৈধ পথে সোনার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশে সোনা ও রুপোর চোরাচালান বা স্মাগলিং ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারতের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ সোনাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, আর ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন রুখতেই কেন্দ্রকে এই 'তিতা ওষুধ' গিলে নিতে হল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন