কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে যাঁদের লড়াই আর বাক্যবাণ নিত্যদিনের শিরোনাম, বিধানসভার অন্দরে তাঁদেরই দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে। রাজ্য রাজনীতিতে চরম দুই মেরুর ব্যক্তিত্ব—মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সদ্য বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়া তৃণমূলের কুণাল ঘোষের সৌজন্য বিনিময় ঘিরে বৃহস্পতিবার রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেল বিধানসভার লবিতে।
মাস কয়েক আগেও কুণাল ঘোষ নিয়ম করে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সমালোচনা করেছেন, আবার শুভেন্দুও তাঁকে বিঁধতে ছাড়েননি। কিন্তু এদিন লবিতে মুখোমুখি হতেই সব তিক্ততা ভুলে হাসিমুখে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানালেন তাঁরা। কুণাল ঘোষকে সামনে দেখে হাবেভাবে মুখ্যমন্ত্রী যখন রসিকতা করে বলেন, ‘কী, শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো!’, তখন উপস্থিত সকলের মুখেই চওড়া হাসির রেখা দেখা যায়।
তবে সৌজন্যের এখানেই শেষ নয়। সেখানে উপস্থিত বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের বর্তমান পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এক কদম এগিয়ে কুণাল ঘোষকে একেবারে জাপটে ধরেন। একসময় কুণাল ঘোষ যখন বিরোধী শিবিরের হয়ে সওয়াল করতেন, তখনও প্রকাশ্যে দিলীপ ঘোষের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে।
কুণাল বলেছিলেন, ‘দিলীপ ঘোষই বঙ্গ বিজেপির সেরা সভাপতি।’ সেই পুরনো সুসম্পর্কের রসায়নই যেন এদিন ধরা পড়ল ক্যামেরায়। নীতি ও আদর্শের লড়াই যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উর্ধ্বে নয়, বিধানসভার অলিন্দে শাসক-বিরোধী দুই হেভিওয়েটের এই ‘কোলাকুলি’ আর আড্ডার মেজাজ যেন তারই এক বিরল মুহূর্ত তৈরি করল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন