Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

গাজায় রক্তপাত বন্ধ হোক! ব্রিকস সম্মেলনে হুঁশিয়ারি জয়শঙ্করের

গাজায় রক্তপাত বন্ধ হোক! ব্রিকস সম্মেলনে হুঁশিয়ারি জয়শঙ্করের
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধের মেঘ আর অশান্তির বাতাবরণ, তখনই ফের একবার শান্তির দূত হয়ে সওয়াল করল ভারত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলনে গাজা ভূখণ্ডে চলা দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান চেয়ে সরব হলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একইসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরাপত্তা পরিষদের আমূল সংস্কারের ডাক দিয়েছেন তিনি।


সম্মেলনের ভাষণে জয়শঙ্কর বলেন, “গাজার ভয়াবহ পরিণতি গোটা বিশ্ব দেখেছে। সেখানে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে হবে।” প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, নয়াদিল্লি ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ (Two-state solution) সমাধানেই বিশ্বাসী। নিরীহ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জোরালো আবেদন জানান তিনি।


আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশ মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধাহীনভাবে জাহাজচলাচল বিশ্ব অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এই নিরাপত্তা কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্যই জরুরি।


রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রসংঘের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী — উভয় বিভাগেই সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকে শান্ত রাখতে হলে এই প্রতিষ্ঠানের খোলনলচে বদলাতে হবে।


সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর জানান, সন্ত্রাসবাদের কোনও যুক্তি থাকতে পারে না। এই মারণব্যাধির বিরুদ্ধে ব্রিকস সদস্য দেশগুলিকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, শান্তি খণ্ড খণ্ডভাবে আসতে পারে না, এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক প্রচেষ্টা।


১৪ এবং ১৫ মে দিল্লিতে চলা এই শীর্ষ সম্মেলন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক শক্তিরই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : SJAISHANKAR brics2026 gazaceasefire

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


গাজায় রক্তপাত বন্ধ হোক! ব্রিকস সম্মেলনে হুঁশিয়ারি জয়শঙ্করের

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধের মেঘ আর অশান্তির বাতাবরণ, তখনই ফের একবার শান্তির দূত হয়ে সওয়াল করল ভারত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির বিদেশ মন্ত্রীদের সম্মেলনে গাজা ভূখণ্ডে চলা দীর্ঘ যুদ্ধের অবসান চেয়ে সরব হলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একইসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরাপত্তা পরিষদের আমূল সংস্কারের ডাক দিয়েছেন তিনি।সম্মেলনের ভাষণে জয়শঙ্কর বলেন, “গাজার ভয়াবহ পরিণতি গোটা বিশ্ব দেখেছে। সেখানে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরাতে হবে।” প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, নয়াদিল্লি ‘দ্বি-রাষ্ট্র’ (Two-state solution) সমাধানেই বিশ্বাসী। নিরীহ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জোরালো আবেদন জানান তিনি।আন্তর্জাতিক জলপথগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিদেশ মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাধাহীনভাবে জাহাজচলাচল বিশ্ব অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এই নিরাপত্তা কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্যই জরুরি।রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রসংঘের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী — উভয় বিভাগেই সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকে শান্ত রাখতে হলে এই প্রতিষ্ঠানের খোলনলচে বদলাতে হবে।সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারতের কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর জানান, সন্ত্রাসবাদের কোনও যুক্তি থাকতে পারে না। এই মারণব্যাধির বিরুদ্ধে ব্রিকস সদস্য দেশগুলিকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, শান্তি খণ্ড খণ্ডভাবে আসতে পারে না, এর জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক প্রচেষ্টা।১৪ এবং ১৫ মে দিল্লিতে চলা এই শীর্ষ সম্মেলন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক শক্তিরই পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার