কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, আর তার জেরেই দেশের বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দামে আগুন। শুক্রবার লিটার প্রতি জ্বালানির দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বাড়তেই এবার সরাসরি পরিবহণ দফতরের দ্বারস্থ হল বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলি। তাদের তরফে সরকার পক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল — হয় ভাড়া বাড়ান, নয়তো রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়া হবে। জ্বালানির এই চরম মূল্যবৃদ্ধির জমানায় গণপরিবহণ টিকিয়ে রাখা এখন কার্যত অসম্ভব বলে দাবি মালিকদের।
শুক্রবার পরিবহণ সচিবের সঙ্গে দেখা করে বাসমালিকদের প্রতিনিধিদল একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যে শেষবার বাসের ভাড়া বেড়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটার প্রতি মাত্র ৬৮ টাকা। বর্তমানে সেই দাম ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯২.০৪ টাকায়। বাসমালিকদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হলেও গত আটবছরে সাধারণ মানুষের ‘জীবনরেখা’ বলে পরিচিত বাসের ভাড়া এক পয়সাও বাড়ানো হয়নি।
বাসমালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভাড়া সংশোধনের জন্য রাজ্য সরকার দুটি পৃথক কমিটি গঠন করেছিল। কিন্তু, সেই কমিটির রিপোর্ট আজও দিনের আলো দেখেনি। বিমা, গাড়ির যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে কর্মীদের বেতন — সব খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাস চালানো এখন লোকসানের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। চিঠিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে ভাড়া না বাড়ালে খুব শীঘ্রই রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাবে বেসরকারি বাস।
সংগঠনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এবং হাজার হাজার মালিক সরাসরি এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। নামমাত্র ভাড়ায় সর্বাধিক সংখ্যক যাত্রীকে পরিষেবা দিতে গিয়ে এখন তাঁরা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। ন্যায্য ভাড়া কার্যকর করার মাধ্যমে এই শিল্পকে বাঁচানোর জন্য সরকারের কাছে শেষবারের মতো আবেদন জানিয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট-সহ অন্যান্য সংগঠন।
এখন দেখার, নতুন সরকার মধ্যবিত্তের পকেটের উপর চাপ না বাড়িয়ে কীভাবে এই পরিবহণ সঙ্কট মেটায়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন