কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের ঘটনা কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এই মামলা রুজু হওয়ার পর এবার সরাসরি অভিষেকের গ্রেফতারির দাবি তুললেন মূল অভিযোগকারী তথা সমাজকর্মী রাজীব সরকার। তাঁর দাবি, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সবসময় সংবিধানসম্মত হওয়া উচিত। কিন্তু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং আইনি পরিভাষায় অপরাধের শামিল।
ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত এবং অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর তিনটি ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের দুটি ধারা। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য (Non-bailable) হওয়ায় আইনি পরিভাষায় অভিষেকের অস্বস্তি ও জটিলতা যে অনেকটাই বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
ঠিক কী অভিযোগে রুজু হল এই হাইভোল্টেজ মামলা? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন অভিযোগকারী রাজীব সরকার। তিনি জানান, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্য জনসভায় 'দেখে নেব' বলে হুঁশিয়ারি ও হুমকি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজীব সরকারের সাফ কথা, “এটি কোনও রাজনৈতিক দলের মার্জিত ভাষা নয়, বরং এটি একটি 'গুন্ডার ভাষা'। সমাজ তথা দেশের কোনও বড় নেতার এই ধরনের মন্তব্য করার বা হুমকি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সমস্ত অডিয়ো-ভিডিয়ো প্রমাণ সমেত তাঁরা সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত অকাট্য নথি ও ডিজিট্যাল এভিডেন্স পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই আজ তাঁদের থানায় ডাকা হয়েছিল।
তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের সরাসরি গ্রেফতারির দাবি তুলে অভিযোগকারী সমাজকর্মী আরও এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই পুরো ঘটনার পিছনে একটা বড়সড় গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। আমরা সমস্ত তথ্য জোগাড় করেছি এবং সময় এলে আদালতের কাঠগড়াতেই সবটা ফাঁস করে দেওয়া হবে।”
নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর যেখানে রাজনৈতিক দলগুলি নতুন সমীকরণ তৈরিতে ব্যস্ত, সেখানে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের পুলিশ যেভাবে সক্রিয় হয়ে সরাসরি অভিষেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করল, তাতে রাজ্যের রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আগামী দিনে আরও কয়েক গুণ তীব্র হবে, তা নিশ্চিত।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন