Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সিবিএসই-র বড় ঘোষণা, ১ জুলাই থেকে তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক!

সিবিএসই-র বড় ঘোষণা, ১ জুলাই থেকে তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক!
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-র নিয়ম মেনে এবার স্কুলস্তরের ভাষা শিক্ষার পাঠ্যক্রমে এক ঐতিহাসিক ও আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE)। আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বোর্ডের তরফে ১৫ মে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য এই ত্রিভাষা নীতি পুরোপুরি চালু হয়ে যাচ্ছে।


নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিবিএসই স্কুলপড়ুয়াদের এখন থেকে তিনটি করে ভাষা পড়তে হবে। পড়ুয়াদের স্থানীয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও বেশি করে ওয়াকিবহাল করতেই মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দু’টি ভাষা বেছে নেওয়ার এই নীতি কার্যকর করছে বোর্ড।


সিবিএসইর এই নির্দেশিকায় ভাষা শিক্ষার তিনটি বিভাগকে আর-১, আর-২ এবং আর-৩ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আর-১ এবং আর-২ বিভাগে দু’টি ভারতীয় ভাষা পড়ানো হবে এবং আর-৩ বিভাগে রাখা হয়েছে বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ। উল্লেখ্য, ইংরেজিকে এখানে বিদেশি ভাষার বিভাগেই রাখা হয়েছে। ভারতীয় ভাষাগুলির তালিকায় রয়েছে বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় ও গুজরাতি।


তবে সিবিএসই-র নতুন শিক্ষাবর্ষ গত এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যাতে আর-৩ বিষয়ের বইয়ের অভাবে সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য এক অভিনব বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে বোর্ড। সিবিএসই জানিয়েছে, নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যতদিন না আর-৩ বিষয়ের নতুন বই হাতে পাচ্ছে, ততদিন তারা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রম অভ্যাস করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাধ্যমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকস্তরের ভাষাশিক্ষার মূল ব্যাকরণ বা সাহিত্যের পাঠ্যক্রমে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে, তাই নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা ক্লাস সিক্সের বই ব্যবহার করলেও পঠনপাঠনে কোনও অসুবিধা হবে না। শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বই আসতে দেরি হলে স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ছোটগল্প ও কবিতা ক্লাসে পড়াতে।

বোর্ড আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ১ জুলাইয়ের আগেই ১৯টি ভাষায় ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই সমস্ত স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত সাহিত্য উপকরণ কীভাবে পড়ানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।


তবে, এই নতুন নিয়ম চালু করার ক্ষেত্রে সিবিএসই-র অন্যতম বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগ্য ভাষার শিক্ষকের অভাব। দেশের বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভারতীয় ভাষার শিক্ষক নেই। এই সঙ্কট মেটাতে বোর্ডের তরফে স্কুলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেসমস্ত শিক্ষক অন্য বিষয় পড়ান অথচ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় ভাষায় দক্ষ ও পারদর্শী, আপাতত তাঁদের দিয়েই এই ভাষার ক্লাসগুলি করানো হোক। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগ করে নেওয়া, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় চুক্তিভিত্তিতে কাজে লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছে সিবিএসই।

বিষয় : cbseupdate nationaleducationpolicy cbselanguagerule

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


সিবিএসই-র বড় ঘোষণা, ১ জুলাই থেকে তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক!

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-র নিয়ম মেনে এবার স্কুলস্তরের ভাষা শিক্ষার পাঠ্যক্রমে এক ঐতিহাসিক ও আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE)। আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বোর্ডের তরফে ১৫ মে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে। নতুন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য এই ত্রিভাষা নীতি পুরোপুরি চালু হয়ে যাচ্ছে।নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিবিএসই স্কুলপড়ুয়াদের এখন থেকে তিনটি করে ভাষা পড়তে হবে। পড়ুয়াদের স্থানীয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও বেশি করে ওয়াকিবহাল করতেই মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দু’টি ভাষা বেছে নেওয়ার এই নীতি কার্যকর করছে বোর্ড।সিবিএসইর এই নির্দেশিকায় ভাষা শিক্ষার তিনটি বিভাগকে আর-১, আর-২ এবং আর-৩ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আর-১ এবং আর-২ বিভাগে দু’টি ভারতীয় ভাষা পড়ানো হবে এবং আর-৩ বিভাগে রাখা হয়েছে বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ। উল্লেখ্য, ইংরেজিকে এখানে বিদেশি ভাষার বিভাগেই রাখা হয়েছে। ভারতীয় ভাষাগুলির তালিকায় রয়েছে বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় ও গুজরাতি।তবে সিবিএসই-র নতুন শিক্ষাবর্ষ গত এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যাতে আর-৩ বিষয়ের বইয়ের অভাবে সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য এক অভিনব বিকল্প ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে বোর্ড। সিবিএসই জানিয়েছে, নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যতদিন না আর-৩ বিষয়ের নতুন বই হাতে পাচ্ছে, ততদিন তারা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রম অভ্যাস করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাধ্যমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকস্তরের ভাষাশিক্ষার মূল ব্যাকরণ বা সাহিত্যের পাঠ্যক্রমে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিল রয়েছে, তাই নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা ক্লাস সিক্সের বই ব্যবহার করলেও পঠনপাঠনে কোনও অসুবিধা হবে না। শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বই আসতে দেরি হলে স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী ছোটগল্প ও কবিতা ক্লাসে পড়াতে।বোর্ড আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, ১ জুলাইয়ের আগেই ১৯টি ভাষায় ষষ্ঠ শ্রেণির আর-৩ বই সমস্ত স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত সাহিত্য উপকরণ কীভাবে পড়ানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।তবে, এই নতুন নিয়ম চালু করার ক্ষেত্রে সিবিএসই-র অন্যতম বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগ্য ভাষার শিক্ষকের অভাব। দেশের বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভারতীয় ভাষার শিক্ষক নেই। এই সঙ্কট মেটাতে বোর্ডের তরফে স্কুলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেসমস্ত শিক্ষক অন্য বিষয় পড়ান অথচ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় ভাষায় দক্ষ ও পারদর্শী, আপাতত তাঁদের দিয়েই এই ভাষার ক্লাসগুলি করানো হোক। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগ করে নেওয়া, অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় চুক্তিভিত্তিতে কাজে লাগানোরও পরামর্শ দিয়েছে সিবিএসই।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার