ফলতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় পটপরিবর্তন! সম্পূর্ণ একা হয়ে ভোটের ময়দান থেকে কার্যত পিছু হঠলেন দাপুটে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান! মঙ্গলবার, প্রচারের শেষ লগ্নে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজেকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করলেন তিনি। যে তৃণমূল নেতা কিছুদিন আগেও পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছিলেন, তাঁর এই আকস্মিক আত্মসমর্পণে হতবাক রাজনৈতিক মহল। জাহাঙ্গিরের এই ঘোষণার পরপরই ফলতাজুড়ে গেরুয়া আবির উড়িয়ে উৎসবে মেতে উঠেছেন বিজেপি কর্মীরা।
মঙ্গলবার সকালে সাদা শার্ট আর কালো ট্রাউজার্স পরে নিজের বাড়িতেই এক আবেগঘন সাংবাদিক বৈঠক করেন জাহাঙ্গির খান। কথা বলার সময় কার্যত গলা ধরে আসে এই নেতার। তিনি বলেন, "আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাই ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক। আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তাই ফলতার মানুষের ভালোর স্বার্থে আমি ২১ মের পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।"
যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের আইনি সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় ইভিএমে জাহাঙ্গির খানের নাম ও প্রতীক থাকবে। তবে, তিনি যে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও নির্দেশ ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য সুকৌশলে তা এড়িয়ে যান জাহাঙ্গির।
গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যে শেষ দফার বিধানসভা ভোট চলাকালীন ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানোর মতো মারাত্মক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি তোলেন। নির্বাচন কমিশন সেই দাবি মেনে নিয়ে ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করে। এদিকে গত ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলপ্রকাশ হতেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি। রাজ্যে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকেই কার্যত ‘একা’ হয়ে পড়েন জাহাঙ্গির। শেষ দফার ভোটের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হয়ে প্রচার করলেও, পুনর্নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলের কোনও বড় নেতাকে আর ফলতায় দেখা যায়নি।
ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মাকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জাহাঙ্গির হুঙ্কার দিয়েছিলেন, "পুষ্পা রাজ, ঝুঁকেগা নেহি!" কিন্তু, পরিস্থিতি বদলে যেতেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে রক্ষাকবচ নিতে বাধ্য হন তিনি। এর মধ্যেই ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া ভাষায় জাহাঙ্গিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যান। শুভেন্দু সাফ জানান, বিজেপি প্রার্থীকে লক্ষাধিক ভোটে জেতালে ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজ দেবে তাঁর সরকার।
এলাকার মানুষের উপর জুলুম ও ভোটে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গির খান বলেন, "আমি নিজের অফিসে বসে ভোট পরিচালনা করেছি, কোনও কারচুপি করিনি। ফলতার মানুষের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করিনি। যদি কেউ বলে থাকেন, আমার বিশ্বাস আমার সামনে এলে তাঁরা সে কথা বলবেন না।"
মঙ্গলবার যখন ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেগা ‘রোড শো’ করছেন, ঠিক তখনই ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরের এই ময়দান ছাড়ার ঘোষণা ফলতায় পদ্মশিবিরের জয়কে কার্যত সময়ের অপেক্ষা বানিয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন