কলকাতা: "যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়!" রেজিনগর ও শক্তিপুরে উসকানিমূলক ভাষণ এবং বিরোধীদের ‘স্যাঁটা ভাঙা মার’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে চরম বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কড়া সুরে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুমায়ুনের মতো লোকজনকে এবার ‘শিক্ষা’ দেওয়ার সময় এসেছে। রাজ্যে বেপরোয়া ও লাগামছাড়া মন্তব্য করে পার পাওয়ার দিন শেষ। ইতিমধ্যেই বিধায়কের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কড়া ধারায় দুটি এফআইআর রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।[TECHTARANGA-POST:10387]বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন হুমায়ুনের বিতর্কিত বক্তব্যগুলি হুবহু পড়ে শোনান। শুভেন্দু বলেন, দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে এতদিন যা খুশি বলা গেছে, কিন্তু এখন আর তা চলবে না। সন্দেশখালির শাহজাহান শেখ, ক্যানিংয়ের শওকত মোল্লা কিংবা ফলতার জাহাঙ্গির খানের মতো বাহুবলীরা যে এখন শ্রীঘরে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে এবং আসন্ন উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে জেতাতে মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ককে ঐক্যবদ্ধ করতেই হুমায়ুন এই বিপজ্জনক খেলা খেলছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিধায়ককে ডেকে এনেছিল আগে পুলিশ তাদের তুলবে, তারপর সরাসরি তাঁর কাছে যাবে। আইন নিজের পথেই চলবে।ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানিয়ে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি[TECHTARANGA-POST:10356]মুখ্যমন্ত্রীর এই রূঢ় হুঁশিয়ারির মুখে অবশ্য একেবারেই দমে যাননি হুমায়ুন কবীর। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে নওদার বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। তাঁর লড়াই মূলত গত ৪ মে-র পর তৈরি হওয়া ‘নবাগত’ বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে, যাঁরা এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছেন। হুমায়ুনের সাফ কথা, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য যদি প্রশাসন তাঁকে গ্রেফতার করতে চায়, তবে করুক, তিনি তাতে বিন্দুমাত্র ভীত নন। ‘স্যাঁটা’ শব্দের আঞ্চলিক মারপ্যাঁচ এবং জেলের ধারণক্ষমতা নিয়ে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।