Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইদের আগেই বড় সংঘাত! বিজেপির পশুহত্যা নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মহুয়া, মোষ-বলদ বলির জন্য চাইলেন বিশেষ ছাড়

ইদের আগেই বড় সংঘাত! বিজেপির পশুহত্যা নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মহুয়া, মোষ-বলদ বলির জন্য চাইলেন বিশেষ ছাড়
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: সামনেই পবিত্র কুরবানির ইদ, আর তার ঠিক আগেই গবাদি পশুহত্যা নিয়ে রাজ্য সরকারের জারি করা কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্র করে আইনি লড়াই শুরু হল কলকাতা হাইকোর্টে। প্রকাশ্যে ও নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গবাদি পশু জবাইয়ের উপর নবগঠিত বিজেপি সরকারের জারি করা বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। বুধবারই এই মামলা শুনানির জন্য উঠলেও রাজ্য সরকারের তরফে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। ফলে আজ, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই মামলার হাই-ভোল্টেজ শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।


বুধবার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি জানান, আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখ কুরবানির ইদ হতে পারে। যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইনের উল্লেখ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “আইনের ১২ নম্বর ধারায় একটা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যার আইনি অনুমতিও আছে। আমরা সেই ১২ নম্বর ধারা সামনে রেখেই আদালতের কাছে ছাড় চেয়েছি। আমরা আবেদন জানিয়েছি, শুধুমাত্র এই উৎসবের দিনগুলির জন্য গরু বাদ দিয়ে মোষ বা বলদ বলির ক্ষেত্রে যাতে এবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।”


রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে নিশানা করে কৃষ্ণনগরের সাংসদ দাবি করেন, এই আকস্মিক বিজ্ঞপ্তির জেরে রাজ্যের গরিব মানুষকে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই সঙ্কটে পড়বে না, বরং বহু হিন্দু ব্যবসায়ী — যাঁরা কুরবানির ইদের সময়ে গবাদি পশু বিক্রি করে সারা বছরের রুটি-রুজি রোজগার করেন, তাঁরাও চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বেন।


রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরপরই ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রির উপর একাধিক কড়া নিয়ম কার্যকর করেছে নতুন সরকার। স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে যত্রতত্র বা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে পশুহত্যা করা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে সরকারের তরফে।


উৎসবের ঠিক মুখে সরকারের এই ‘কড়া’ অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্র ও তৃণমূল বিধায়কের এই আইনি চ্যালেঞ্জ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার।

বিষয় : BengalPolitics kolkatapolitics CalcuttaHighCourt mahua mitra BAKRID2026

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ইদের আগেই বড় সংঘাত! বিজেপির পশুহত্যা নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মহুয়া, মোষ-বলদ বলির জন্য চাইলেন বিশেষ ছাড়

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সামনেই পবিত্র কুরবানির ইদ, আর তার ঠিক আগেই গবাদি পশুহত্যা নিয়ে রাজ্য সরকারের জারি করা কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্র করে আইনি লড়াই শুরু হল কলকাতা হাইকোর্টে। প্রকাশ্যে ও নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গবাদি পশু জবাইয়ের উপর নবগঠিত বিজেপি সরকারের জারি করা বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। বুধবারই এই মামলা শুনানির জন্য উঠলেও রাজ্য সরকারের তরফে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। ফলে আজ, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই মামলার হাই-ভোল্টেজ শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।বুধবার আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি জানান, আগামী ২৭ বা ২৮ তারিখ কুরবানির ইদ হতে পারে। যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইনের উল্লেখ করে মহুয়া মৈত্র বলেন, “আইনের ১২ নম্বর ধারায় একটা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যার আইনি অনুমতিও আছে। আমরা সেই ১২ নম্বর ধারা সামনে রেখেই আদালতের কাছে ছাড় চেয়েছি। আমরা আবেদন জানিয়েছি, শুধুমাত্র এই উৎসবের দিনগুলির জন্য গরু বাদ দিয়ে মোষ বা বলদ বলির ক্ষেত্রে যাতে এবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।”রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে নিশানা করে কৃষ্ণনগরের সাংসদ দাবি করেন, এই আকস্মিক বিজ্ঞপ্তির জেরে রাজ্যের গরিব মানুষকে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই সঙ্কটে পড়বে না, বরং বহু হিন্দু ব্যবসায়ী — যাঁরা কুরবানির ইদের সময়ে গবাদি পশু বিক্রি করে সারা বছরের রুটি-রুজি রোজগার করেন, তাঁরাও চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বেন।রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরপরই ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে গবাদি পশুর মাংস কাটা ও বিক্রির উপর একাধিক কড়া নিয়ম কার্যকর করেছে নতুন সরকার। স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে যত্রতত্র বা নিয়ম-বহির্ভূতভাবে পশুহত্যা করা হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে সরকারের তরফে।উৎসবের ঠিক মুখে সরকারের এই ‘কড়া’ অবস্থান এবং তার বিরুদ্ধে মহুয়া মৈত্র ও তৃণমূল বিধায়কের এই আইনি চ্যালেঞ্জ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার