কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই জ্বলে উঠল তীব্র ‘বিদ্রোহে’র আগুন! ফলতার প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের শেষ মুহূর্তে ‘পিঠটান’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরের শৃঙ্খলা একপ্রকার ভেঙে চুরমার! আর, এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরের ক্ষোভ সামাল দিতে এবং ফাটল রুখতে এবার সরাসরি আসরে নামলেন খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা দলের তিন হেভিওয়েট জয়ী বিধায়ককে জরুরি ভিত্তিতে কালীঘাটের বাসভবনে ডেকে পাঠালেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচন কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার সেখানে ভোটগ্রহণ। অথচ, তার ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার প্রচারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে জাহাঙ্গির খান আচমকা ঘোষণা করে বসেন, “আমি এই ভোটে লড়ছি না।” দলের এই চরম দুঃসময়ে জাহাঙ্গিরের এমন ‘রণভঙ্গ’ দেওয়া কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দলেরই একাংশ।
এই ঘটনার পরই তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দলের ভরাডুবির পর যেখানে মাটি কামড়ে লড়াই করার কথা, সেখানে জাহাঙ্গিরকে কেন এখনও দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না — তা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন এই তিন জয়ী বিধায়ক।
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্ষতে প্রলেপ দিতেই বুধবার বিকেলে কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, বৈঠকের আবহ মোটেও শান্তিপূর্ণ ছিল না। জানা গিয়েছে, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি সুর চড়ান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সন্দীপন ও ঋতব্রতও তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, তিন বিধায়কই নাম না করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। জাহাঙ্গিরকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি ঋতব্রত ও সন্দীপন। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এআই ল্যাব বা ঘরের এসি রুমে বসে বৈঠক না করে, দলের নেতাকর্মীদের মন খুলে কথা বলতে দিতে হবে।
এর আগের এক বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া সুরেই জানিয়েছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা বাইরে না বলে দলে লিখিত আকারে জমা দিতে হবে। কিন্তু, নেত্রীর সেই দাওয়াইয়ে যে বিন্দুমাত্র কাজ হয়নি, তা বুধবারের কালীঘাট বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা দাবি করছেন, জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে, শীর্ষ নেতৃত্বের এই সাফাইয়ে যে দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা শান্ত হচ্ছেন না, তা বলাই বাহুল্য। বুধবারের বৈঠকের পর জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে দল শেষ পর্যন্ত কোনও কড়া পদক্ষেপ করে নাকি বিদ্রোহের আগুনে ঘি পড়ে, সেটাই এখন দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন