Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এলেন না দেবাশিস-তারক-সহ ৪০ কাউন্সিলর! ‘চাপ দিলেও কেউ পদত্যাগ করবে না’, কালীঘাটের জরুরি বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার

এলেন না দেবাশিস-তারক-সহ ৪০ কাউন্সিলর! ‘চাপ দিলেও কেউ পদত্যাগ করবে না’, কালীঘাটের জরুরি বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার
FILE IMAGE

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার কলকাতা পুরনিগমকে (KMC) কেন্দ্র করে তীব্র ডামাডোল ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল শহরে। গত বৃহস্পতিবার পুরনিগমের অধিবেশন স্থগিত করার নির্দেশের পর, শুক্রবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুর রাজনীতি। একদিকে যখন অধিবেশন কক্ষের বাইরে মালা রায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ ‘বিকল্প অধিবেশন’ বসান, অন্যদিকে ঠিক তখনই বিজেপির সজল ঘোষদের তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই চরম ডামাডোলের আবহে শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটের কার্যালয়ে তৃণমূলের সমস্ত পুর কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেই বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকলেন দলের অন্তত ৪০ জন কাউন্সিলর, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের জল্পনা শুরু


পুরনিগম ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরনিগমের মোট ১৩৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে এদিনের কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯৬ জন। অনুপস্থিতির তালিকায় রয়েছে দলের একাধিক হেভিওয়েট ও বড় বড় নাম। মেয়র পারিষদদের (MMIC) মধ্যে বৈঠকে আসেননি দেবাশিস কুমার, তারক সিং এবং জীবন সাহা। বরো চেয়ারম্যানদের মধ্যে দেখা যায়নি জুঁই বিশ্বাস, দেবলীনা বিশ্বাস, অনিন্দ্য কিশোর রাউত ও সুশান্ত ঘোষকে। এছাড়াও অনুপস্থিত কাউন্সিলরদের তালিকায় রয়েছেন কাকলি সেন, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, কৃষ্ণা সিং, ইলোরা সাহা, শচীন কুমার সিং, অলোকানন্দা দাস, শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু, মোনালিসা ব্যানার্জি, মিনাক্ষী গাঙ্গুলি, সুদর্শনা মুখার্জী, দ্বিজেনলাল মুখার্জী ও জলি বোসের মতো চেনা মুখেরা। একযোগে এতজন কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি দলের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


যদিও এই চরম অস্বস্তির মাঝেই বৈঠকে কাউন্সিলরদের মনোবল বাড়াতে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ পুরনিগমে যেভাবে আমাদের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ববি (ফিরহাদ হাকিম), তুমি ডোরিনা ক্রসিংয়ে একটা বড়সড় ধরনার দিন ঠিক কর। সেখানে সব কাউন্সিলররা থাকবে। পুলিশ কেস দিলে দিক, দল আইনজীবী দিয়ে সেই আইনি লড়াই লড়বে। এভাবে চলতে পারে না। নোটিস দিলেই যে এসে ঘর ভেঙে দেবে, তা কোনও নিয়ম নয়। ভাঙারও একটা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া আছে, আগে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়।” একই সঙ্গে দলবদলের জল্পনা ও গেরুয়া শিবিরের চাপের মুখে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে নেত্রীর কড়া নির্দেশ, “কেউ কোনও পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করবে না। দল সবার পাশে আছে। ওরা (বিজেপি) চাপ দেবে, কিন্তু কেউ পদত্যাগ করবে না।” বৈঠকে উপস্থিত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুর চড়িয়ে বলেন, “আপনাদের মানুষ ৫ বছরের জন্য জিতিয়েছে। আপনারা আপনাদের কাজ করে যান। মানুষ ঠিক করবে আপনাদের রাখবে কিনা, বিজেপি নয়।”


অন্য দিকে, এই ‘বিকল্প অধিবেশন’ এবং তৃণমূলের কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি। পুর কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, “তৃণমূলের যে দলটা আজ এসেছিল, তারা পুরনিগমের বিদায়ী এবং নতুন — দু’জন সচিবকেই রীতিমতো হুমকি দিয়েছে। বাইরে বেরোলে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই গুন্ডামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং থানায় পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলেছি। মক পার্লামেন্টের নামে পুরনিগমে যে তামাশা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরনিগমের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সব মিলিয়ে, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি এবং দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘাতে কলকাতা পুরনিগমের ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বিষয় : kokatamunicipalcorporation mamatbanerjee kmccrisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


এলেন না দেবাশিস-তারক-সহ ৪০ কাউন্সিলর! ‘চাপ দিলেও কেউ পদত্যাগ করবে না’, কালীঘাটের জরুরি বৈঠকে কড়া বার্তা মমতার

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার কলকাতা পুরনিগমকে (KMC) কেন্দ্র করে তীব্র ডামাডোল ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল শহরে। গত বৃহস্পতিবার পুরনিগমের অধিবেশন স্থগিত করার নির্দেশের পর, শুক্রবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুর রাজনীতি। একদিকে যখন অধিবেশন কক্ষের বাইরে মালা রায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একাংশ ‘বিকল্প অধিবেশন’ বসান, অন্যদিকে ঠিক তখনই বিজেপির সজল ঘোষদের তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই চরম ডামাডোলের আবহে শুক্রবার বিকেলে কালীঘাটের কার্যালয়ে তৃণমূলের সমস্ত পুর কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সেই বৈঠকেই অনুপস্থিত থাকলেন দলের অন্তত ৪০ জন কাউন্সিলর, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের জল্পনা শুরুপুরনিগম ও দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরনিগমের মোট ১৩৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে এদিনের কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৯৬ জন। অনুপস্থিতির তালিকায় রয়েছে দলের একাধিক হেভিওয়েট ও বড় বড় নাম। মেয়র পারিষদদের (MMIC) মধ্যে বৈঠকে আসেননি দেবাশিস কুমার, তারক সিং এবং জীবন সাহা। বরো চেয়ারম্যানদের মধ্যে দেখা যায়নি জুঁই বিশ্বাস, দেবলীনা বিশ্বাস, অনিন্দ্য কিশোর রাউত ও সুশান্ত ঘোষকে। এছাড়াও অনুপস্থিত কাউন্সিলরদের তালিকায় রয়েছেন কাকলি সেন, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, কৃষ্ণা সিং, ইলোরা সাহা, শচীন কুমার সিং, অলোকানন্দা দাস, শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু, মোনালিসা ব্যানার্জি, মিনাক্ষী গাঙ্গুলি, সুদর্শনা মুখার্জী, দ্বিজেনলাল মুখার্জী ও জলি বোসের মতো চেনা মুখেরা। একযোগে এতজন কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি দলের অন্দরের ফাটল আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।যদিও এই চরম অস্বস্তির মাঝেই বৈঠকে কাউন্সিলরদের মনোবল বাড়াতে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ পুরনিগমে যেভাবে আমাদের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ববি (ফিরহাদ হাকিম), তুমি ডোরিনা ক্রসিংয়ে একটা বড়সড় ধরনার দিন ঠিক কর। সেখানে সব কাউন্সিলররা থাকবে। পুলিশ কেস দিলে দিক, দল আইনজীবী দিয়ে সেই আইনি লড়াই লড়বে। এভাবে চলতে পারে না। নোটিস দিলেই যে এসে ঘর ভেঙে দেবে, তা কোনও নিয়ম নয়। ভাঙারও একটা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া আছে, আগে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়।” একই সঙ্গে দলবদলের জল্পনা ও গেরুয়া শিবিরের চাপের মুখে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে নেত্রীর কড়া নির্দেশ, “কেউ কোনও পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করবে না। দল সবার পাশে আছে। ওরা (বিজেপি) চাপ দেবে, কিন্তু কেউ পদত্যাগ করবে না।” বৈঠকে উপস্থিত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুর চড়িয়ে বলেন, “আপনাদের মানুষ ৫ বছরের জন্য জিতিয়েছে। আপনারা আপনাদের কাজ করে যান। মানুষ ঠিক করবে আপনাদের রাখবে কিনা, বিজেপি নয়।”অন্য দিকে, এই ‘বিকল্প অধিবেশন’ এবং তৃণমূলের কর্মসূচির বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি। পুর কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেন, “তৃণমূলের যে দলটা আজ এসেছিল, তারা পুরনিগমের বিদায়ী এবং নতুন — দু’জন সচিবকেই রীতিমতো হুমকি দিয়েছে। বাইরে বেরোলে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। আমরা কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে এই গুন্ডামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং থানায় পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলেছি। মক পার্লামেন্টের নামে পুরনিগমে যে তামাশা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরনিগমের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সব মিলিয়ে, কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতি এবং দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘাতে কলকাতা পুরনিগমের ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার