Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব! সস্ত্রীক মাদার হাউসে মার্কো রুবিও, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নয়া মোড়

১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব! সস্ত্রীক মাদার হাউসে মার্কো রুবিও, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নয়া মোড়
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার কলকাতায় পা রাখলেন কোনও শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিবিদ। চারদিনের ভারত সফরের প্রথম দফায় শনিবার সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছলেন আমেরিকার নতুন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী জ্যানেট ডৌসডেবস রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি চলে যান মধ্য কলকাতার ‘মাদার হাউস’-এ। সেখানে মাদার তেরেসার তৈরি মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর এবং শিশু ভবন ঘুরে দেখেন রুবিও দম্পতি। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। তারপর এই প্রথম হোয়াইট হাউসের কোনও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি তিলোত্তমায় এলেন।


ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাসী মার্কো রুবিও কলকাতায় পা দিয়েই মাদার হাউসে যান। সেখানে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কথা বলেন তিনি। মাদার তেরেসার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সংলগ্ন চিলড্রেনস হোম বা শিশু ভবনটিও পরিদর্শন করেন মার্কিন বিদেশসচিব। কূটনৈতিক মহলের মতে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রুবিওর এই সফরের সূচনা হিসেবে কলকাতাকে বেছে নেওয়া এবং মাদার হাউসে যাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সফর বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।


কলকাতা সফর শেষ করে শনিবার বিকেলেই নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। রাজধানীতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। আমেরিকা থেকে রওনা হওয়ার আগেই রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসন কতটা আগ্রহী। হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দামের আবহে ভারতকে ‘মহান অংশীদার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ভারত যত পরিমাণ জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমেরিকা ততটাই সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো ও ভেনেজুয়েলার ক্রুড অয়েল সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।


মার্কিন বিদেশসচিবের এই চারদিনের ঠাসা কর্মসূচিতে কলকাতা ও দিল্লির পাশাপাশি রয়েছে আগ্রা এবং জয়পুর সফর। তবে, এই সফরের মূল ভূকৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে আগামী ২৬ মে দিল্লির ‘কোয়াড’ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়াং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগির সঙ্গে যৌথ বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য রুখতে এবং প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে চতুর্দেশীয় অক্ষকে আরও মজবুত করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

বিষয় : globalpolitics KOLKATAVISIT marcorubio ussecretaryofstate motherhouse

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


১৪ বছর পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব! সস্ত্রীক মাদার হাউসে মার্কো রুবিও, দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নয়া মোড়

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার কলকাতায় পা রাখলেন কোনও শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিবিদ। চারদিনের ভারত সফরের প্রথম দফায় শনিবার সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছলেন আমেরিকার নতুন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী জ্যানেট ডৌসডেবস রুবিও এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি চলে যান মধ্য কলকাতার ‘মাদার হাউস’-এ। সেখানে মাদার তেরেসার তৈরি মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর এবং শিশু ভবন ঘুরে দেখেন রুবিও দম্পতি। এর আগে ২০১২ সালের মে মাসে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। তারপর এই প্রথম হোয়াইট হাউসের কোনও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি তিলোত্তমায় এলেন।ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাসী মার্কো রুবিও কলকাতায় পা দিয়েই মাদার হাউসে যান। সেখানে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির আধিকারিকদের সঙ্গে বেশ কিছু সময় কথা বলেন তিনি। মাদার তেরেসার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সংলগ্ন চিলড্রেনস হোম বা শিশু ভবনটিও পরিদর্শন করেন মার্কিন বিদেশসচিব। কূটনৈতিক মহলের মতে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রুবিওর এই সফরের সূচনা হিসেবে কলকাতাকে বেছে নেওয়া এবং মাদার হাউসে যাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই সফর বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।কলকাতা সফর শেষ করে শনিবার বিকেলেই নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন মার্কো রুবিও। রাজধানীতে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। আমেরিকা থেকে রওনা হওয়ার আগেই রুবিও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসন কতটা আগ্রহী। হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দামের আবহে ভারতকে ‘মহান অংশীদার’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ভারত যত পরিমাণ জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমেরিকা ততটাই সরবরাহ করতে প্রস্তুত। মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যিক শুল্ক কমানো ও ভেনেজুয়েলার ক্রুড অয়েল সরবরাহ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।মার্কিন বিদেশসচিবের এই চারদিনের ঠাসা কর্মসূচিতে কলকাতা ও দিল্লির পাশাপাশি রয়েছে আগ্রা এবং জয়পুর সফর। তবে, এই সফরের মূল ভূকৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে আগামী ২৬ মে দিল্লির ‘কোয়াড’ভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওয়াং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগির সঙ্গে যৌথ বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য রুখতে এবং প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে চতুর্দেশীয় অক্ষকে আরও মজবুত করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার