কলকাতা: বেআইনি নির্মাণের জালে এবার কি তবে সত্যিই কোণঠাসা ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভা যখন শহরের যত্রতত্র বুলডোজার নামিয়ে বেআইনি কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন অস্বস্তিতে পড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিনকয়েক আগেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারিয়ে কড়া সুরে জবাব দিয়েছিলেন, কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সুর নরম করল তাঁরই সংস্থা। কলকাতার কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের একাধিক সম্পত্তি নিয়ে পুরসভার পাঠানো কড়া নোটিসের জবাব দিতে এবার সরাসরি ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়ে বসল ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’।
গত শুক্রবারই বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়ে মেজাজ হারিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা হোক, তারপর উত্তর দেব।” কিন্তু তাঁর এই হুঙ্কারের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগে পৌঁছে যায় তাঁর সংস্থার একটি চিঠি। সেই চিঠিতে সুর বদলে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের তরফে জানানো হয়েছে, পুরসভা যে সব সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি জানতে চেয়েছে, তা তারা দিতে প্রস্তুত, তবে তার জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। ১০ দিন সময় পেলেই তারা যাবতীয় নথিপত্র পুরসভার হাতে তুলে দেবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সংস্থা লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে থাকা একাধিক সম্পত্তিতে কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই নোটিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত আইনি নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে দুটি বাড়ির কথা শোনা গেলেও, রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন যে, অভিষেকের আত্মীয়দের নামসহ মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ, অনুমোদিত নকশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই হাইপ্রোফাইল বহুতলগুলির একাংশ বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে।
লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডসের সময় চাওয়ার এই চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, প্রভাবশালী তকমা ঝেড়ে ফেলে এই সমস্ত বেআইনি নির্মাণের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং বুলডোজার অ্যাকশন এখানেও কার্যকর হোক। অন্যদিকে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম অবশ্য বিষয়টিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং নিয়মমাফিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুরসভার একটি সূত্র জানাচ্ছে, সাধারণত কেউ সময় চাইলে তা দেওয়াই রেওয়াজ, তাই আপাতত অভিষেকের সংস্থাকে কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষেই সায় দিচ্ছে বিল্ডিং বিভাগ। তবে শহরের বুকে একের পর এক বেআইনি বাড়ি ভাঙার হিড়িকের মাঝে অভিষেকের এই ‘সময় ভিক্ষা’র আবেদন যে তাঁর রাজনৈতিক অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন