Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নজিরবিহীন নির্দেশিকা নবান্নের

জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নজিরবিহীন নির্দেশিকা নবান্নের
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: বঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে এবার এক্কেবারে কোমর বেঁধে আসরে নামল রাজ্য সরকার। বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের আটকে রাখার জন্য এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় তৈরি হতে চলেছে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত এক অত্যন্ত কড়া ও চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি, সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং কলকাতার পাশাপাশি প্রতিটি কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবান্নের এই পদক্ষেপের পর সীমান্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে এক বিরাট তোলপাড় শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।


মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বতন নির্দেশিকাগুলি আগের রাজ্য সরকার পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তাঁর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গে সেই আইন অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন, অথচ বেআইনিভাবে এ রাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। আর শুভেন্দুর এই কড়া ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিকভাবে নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। এই নতুন ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলিতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে।


নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (নিজ দেশে ফেরত পাঠানো)’ বা ‘৩ডি’ নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের জারি করা আট পাতার নির্দেশিকাকে ঢাল করেই নবান্ন এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছে। কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী আধিকারিকদের সামান্যতম সন্দেহ হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কি না, তা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক। শুধু নতুন ধৃতরাই নন, এ রাজ্যের জেল থেকে সাজা খেটে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদেরও নিজ দেশে পাঠানোর আগে পর্যন্ত এই সেন্টারে রাখা হবে।


অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে প্রতি জেলায় পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠন করার কাজও শুরু হয়েছে। ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ যাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) সংগ্রহ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ পোর্টালে আপলোড করা হবে। এর পর তাঁদের ভারতে স্থায়ীভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে। জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়া মাত্রই অনুপ্রবেশকারীদের এই সেন্টার থেকেই তুলে নিয়ে গিয়ে সরাসরি সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠাতে পারবে বিএসএফ বা কোস্ট গার্ড। বঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা করিডোর বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযান এখন অনুপ্রবেশকারী ও তাঁদের মদতদাতাদের রাতের ঘুম ওড়াতে বাধ্য।

বিষয় : BSF Kolkata Bangladesh suvendu adhikari #nabanna rohingya INFILTRATION HOLDINGCENTER

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নজিরবিহীন নির্দেশিকা নবান্নের

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে এবার এক্কেবারে কোমর বেঁধে আসরে নামল রাজ্য সরকার। বাংলাদেশি কিংবা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের আটকে রাখার জন্য এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় তৈরি হতে চলেছে বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’। নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত এক অত্যন্ত কড়া ও চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি, সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং কলকাতার পাশাপাশি প্রতিটি কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নবান্নের এই পদক্ষেপের পর সীমান্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যে এক বিরাট তোলপাড় শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বতন নির্দেশিকাগুলি আগের রাজ্য সরকার পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তাঁর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গে সেই আইন অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন, অথচ বেআইনিভাবে এ রাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। আর শুভেন্দুর এই কড়া ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিকভাবে নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। এই নতুন ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলিতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে।নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন ‘ডিটেক্ট (চিহ্নিত করা), ডিলিট (ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া) এবং ডিপোর্ট (নিজ দেশে ফেরত পাঠানো)’ বা ‘৩ডি’ নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালের ২ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনার্স ডিভিশনের জারি করা আট পাতার নির্দেশিকাকে ঢাল করেই নবান্ন এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছে। কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন বলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী আধিকারিকদের সামান্যতম সন্দেহ হলেই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে তিনি আদৌ ভারতীয় কি না, তা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক। শুধু নতুন ধৃতরাই নন, এ রাজ্যের জেল থেকে সাজা খেটে ছাড়া পাওয়া বিদেশি বন্দিদেরও নিজ দেশে পাঠানোর আগে পর্যন্ত এই সেন্টারে রাখা হবে।অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত পাঠানোর সুবিধার্থে প্রতি জেলায় পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠন করার কাজও শুরু হয়েছে। ‘হোল্ডিং সেন্টার’-এ যাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের প্রত্যেকের বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি) সংগ্রহ করে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ পোর্টালে আপলোড করা হবে। এর পর তাঁদের ভারতে স্থায়ীভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করে তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে। জরুরি পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়া মাত্রই অনুপ্রবেশকারীদের এই সেন্টার থেকেই তুলে নিয়ে গিয়ে সরাসরি সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠাতে পারবে বিএসএফ বা কোস্ট গার্ড। বঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা করিডোর বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের এই সাঁড়াশি অভিযান এখন অনুপ্রবেশকারী ও তাঁদের মদতদাতাদের রাতের ঘুম ওড়াতে বাধ্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার