কলকাতা: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে নজিরবিহীন রগড়ে মাতলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর ঐতিহাসিক ও রেকর্ড মার্জিনে বিপুল জয়ের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। সেখানে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে তীব্র কটাক্ষের বাণে বিঁধেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, একদা মিডিয়া ও শাসকদলের তৈরি করা তথাকথিত কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ আসলে এখন এক্কেবারে ‘তৃণমূলের হার-বার মডেলে’ পরিণত হয়েছে।
ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে জয়ী করার জন্য ফলতার ‘জনতা-জনার্দন গণদেবতা’র প্রতি মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “ফলতার ভোটারদের কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে আমি এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, কিন্তু মানুষের উজাড় করা আশীর্বাদে জয়ের ব্যবধান এবার এক লক্ষ আট হাজার গণ্ডিও পার করে গিয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, দীর্ঘ বঞ্চনার পর এবার এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমেই তিনি ফলতাবাসীর এই বিশ্বাসের ঋণ শোধ করবেন এবং ‘সোনার ফলতা’ গড়ার জন্য তাঁর নতুন সরকার ১০০ শতাংশ দায়বদ্ধ।
তৃণমূল কংগ্রেসের অতীত শাসনকালকে চরম কড়া ভাষায় আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, একটি নীতি ও আদর্শহীন দল যখন স্রেফ ‘মাফিয়া কোম্পানিতে’ রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারানো মাত্রই তার সেই আসল কঙ্কালসার দশা আজ সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, এতদিন রাষ্ট্রীয় শক্তির চরম অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর সংস্কৃতির মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা নিজেদের ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন। কিন্তু বঙ্গে ক্ষমতা বদলাতেই সেই ভয়ের সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র টিপ্পনি কেটে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘প্যারাসুটে নামা সেনাপতি’ এবং ‘জালিয়াতি’র মূল কারিগর বলে দেগে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নিজের অপরাধের সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে কোনও কসুর করেননি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনগুলিকে প্রহসনে পরিণত করে এই ফলতা থেকেই দেড় লাখ ভোটের অলীক লিড নিয়েছিল তৃণমূল।
কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর পর যখন এবার মানুষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় নিজের ভোট নিজে দেওয়ার প্রকৃত স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখনই আসল বাস্তবটা প্রকাশিত হয়ে পড়ল। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তৃণমূলের এই জনপ্রত্যাখ্যানের পালা তো সবে শুরু। নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূলের ভবিষ্যৎকে উপহাস করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী দিনে তৃণমূল নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’ (NOTA)-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। ত্রিপুরায় ওরা ইতিমধ্যেই নোটার কাছে হেরেছে, এবার পশ্চিমবঙ্গেও নোটা বনাম তৃণমূলের এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যবাসী।”
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন