কলকাতা: আইনি জগতে নক্ষত্রপতন! প্রয়াত হলেন কলকাতা হাইকোর্টের দুঁদে ও বর্ষীয়ান আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি। লিভারের সমস্যাসহ একাধিক বয়সজনিত অসুস্থতা নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সেখানেই আজ, সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবরে গোটা রাজ্যের আইনজীবী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বেঙ্গালুরুর ‘ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি’র কৃতী ছাত্র ফিরোজ এডুলজি দীর্ঘকাল ধরে সুনামের সঙ্গে ওকালতি করে আসছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সাল থেকে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে পথচলা শুরু তাঁর। দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু হাইপ্রোফাইল এবং জটিল মামলায় নিজের ক্ষুরধার যুক্তির স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক অতীতে আর জি করের নৃশংস ঘটনার শিকার হওয়া চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষে দাঁড়িয়ে আদালতে অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেছিলেন ফিরোজ। নির্যাতিতার পরিবারকে সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি হাইকোর্টে যখন নতুন করে আর জি কর মামলার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে, ঠিক সেই আবহেই তাঁর এই চিরবিদায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
শুধুমাত্র আর জি কর মামলাই নয়, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যের একাধিক চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী মামলায় আইনি লড়াইয়ের অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। কামদুনি গণধর্ষণ ও খুন থেকে শুরু করে বীরভূমের বগটুই হত্যাকাণ্ড — প্রতি ক্ষেত্রেই তাঁর সওয়াল ছিল অত্যন্ত ধারালো। তাঁর অকাট্য যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই আদালত বগটুই হিংসার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর পক্ষেও আদালতে সওয়াল করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।
ব্যক্তিগত জীবনে ফিরোজ এডুলজি ছিলেন পার্সি জোরাস্ট্রিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষ। আইনি পেশার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সঙ্গে। একইসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (দক্ষিণবঙ্গ)-এর সহ-সভাপতি হিসেবেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর চলে যাওয়া কেবল আইনি ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন