Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সবুজ-মেরুনে আচমকা বড় ধাক্কা! মোহনবাগানের সহ-সভাপতি পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ, নেপথ্যে কোন রহস্য?

সবুজ-মেরুনে আচমকা বড় ধাক্কা! মোহনবাগানের সহ-সভাপতি পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ, নেপথ্যে কোন রহস্য?
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: বাংলার ময়দানে এবার এক বিরাট ও চমকপ্রদ খবর! হঠাৎ করেই ঐতিহ্যশালী মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কুণাল ঘোষ। দু’-দুটি দফায় সবুজ-মেরুন শিবিরের এই গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর এই আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার নিজেই সোশাল মিডিয়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো পদত্যাগপত্রটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জনসমক্ষে এনেছেন বেলেঘাটার এই বিধায়ক। ক্লাবের অন্দরমহলে এই পদত্যাগের নেপথ্যে গভীর কোনো সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবল অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।


সোশাল মিডিয়ায় পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে নিজের বহু বছরের পুরনো ও নাড়ির সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরেছেন কুণাল ঘোষ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে খাতা-কলমে ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, দু’দফায় এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করতে পারায় তিনি নিজেকে অত্যন্ত ধন্য মনে করেন। আবেগে ভেসে কুণাল দুটি বিশেষ ছবিও আপলোড করেছেন, যার একটিতে ১৯৮৫ সালে মোহনবাগান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর আড্ডার মুহূর্ত এবং অন্যটিতে ‘মোহনবাগান ভক্ত’ লেখা টিশার্ট পরে স্কটল্যান্ডের মাটিতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার ছবি। শৈশব থেকে গ্যালারিতে বসে ক্লাবের জন্য গলা ফাটানো এবং পরবর্তীতে সেই ক্লাবেরই শীর্ষকর্তা হওয়া— পুরো যাত্রাপথটি যে তাঁর হৃদয়ের কতটা কাছাকাছি ছিল, তা তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে।


ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্তকে পাঠানো ইস্তফার বয়ানে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, ‘জ্ঞান হওয়া থেকে আমি মোহনবাগান। আমার হাঁটা শেখাও এই লনে। বাল্য ও কৈশোর কেটেছে এই মাঠের গ্যালারিতে।’ অতীতের এক কঠিন সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, ক্লাব যখন একসময়ে নির্বাসনের বা সাসপেনশনের মুখে পড়েছিল, তখন সমর্থকদের বিপুল সই সংগ্রহ করে মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসুদের সঙ্গে নিয়ে খোদ দিল্লির এআইএফএফ (AIFF) দফতরে গিয়ে বৈঠক করার স্মৃতি আজও তাঁর চোখে ভাসে। পরবর্তীতে সহ-সভাপতি হিসেবে ক্লাবের নানা গঠনমূলক কাজে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং তাঁরই দেওয়া বিশেষ প্রস্তাবে ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু করার জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কুণাল।


পদ ছাড়লেও মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা যে বিন্দুমাত্র কমছে না, তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই রাজনীতিক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পদত্যাগের পরেও তিনি ক্লাবের আজীবন সাধারণ সদস্য ও সমর্থক হিসেবে গ্যালারিতেই থাকবেন এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেন তাঁর এই ইস্তফাপত্রটি অবিলম্বে গ্রহণ করে নেন। একই সাথে বর্তমান সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বোসের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, আপনাদের পরিচালনা ও কর্মসমিতির সক্রিয়তায় মোহনবাগান আগামী দিনে আরও অনেক দূর এগিয়ে চলুক। এখন দেখার, কুণালের এই আকস্মিক পদত্যাগের পর ক্লাবের অন্দরে নতুন কোনো রদবদল ঘটে কি না।

বিষয় : kunalghosh mohunbagan kolkatafootball GREENMAROON maidannews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সবুজ-মেরুনে আচমকা বড় ধাক্কা! মোহনবাগানের সহ-সভাপতি পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ, নেপথ্যে কোন রহস্য?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বাংলার ময়দানে এবার এক বিরাট ও চমকপ্রদ খবর! হঠাৎ করেই ঐতিহ্যশালী মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কুণাল ঘোষ। দু’-দুটি দফায় সবুজ-মেরুন শিবিরের এই গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার পর তাঁর এই আচমকা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার নিজেই সোশাল মিডিয়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো পদত্যাগপত্রটি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা জনসমক্ষে এনেছেন বেলেঘাটার এই বিধায়ক। ক্লাবের অন্দরমহলে এই পদত্যাগের নেপথ্যে গভীর কোনো সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবল অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।সোশাল মিডিয়ায় পদত্যাগের কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে নিজের বহু বছরের পুরনো ও নাড়ির সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরেছেন কুণাল ঘোষ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে খাতা-কলমে ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করে তিনি জানান, দু’দফায় এই ঐতিহ্যশালী ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ করতে পারায় তিনি নিজেকে অত্যন্ত ধন্য মনে করেন। আবেগে ভেসে কুণাল দুটি বিশেষ ছবিও আপলোড করেছেন, যার একটিতে ১৯৮৫ সালে মোহনবাগান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে তাঁর আড্ডার মুহূর্ত এবং অন্যটিতে ‘মোহনবাগান ভক্ত’ লেখা টিশার্ট পরে স্কটল্যান্ডের মাটিতে তাঁর দাঁড়িয়ে থাকার ছবি। শৈশব থেকে গ্যালারিতে বসে ক্লাবের জন্য গলা ফাটানো এবং পরবর্তীতে সেই ক্লাবেরই শীর্ষকর্তা হওয়া— পুরো যাত্রাপথটি যে তাঁর হৃদয়ের কতটা কাছাকাছি ছিল, তা তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে।ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্তকে পাঠানো ইস্তফার বয়ানে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, ‘জ্ঞান হওয়া থেকে আমি মোহনবাগান। আমার হাঁটা শেখাও এই লনে। বাল্য ও কৈশোর কেটেছে এই মাঠের গ্যালারিতে।’ অতীতের এক কঠিন সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, ক্লাব যখন একসময়ে নির্বাসনের বা সাসপেনশনের মুখে পড়েছিল, তখন সমর্থকদের বিপুল সই সংগ্রহ করে মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসুদের সঙ্গে নিয়ে খোদ দিল্লির এআইএফএফ (AIFF) দফতরে গিয়ে বৈঠক করার স্মৃতি আজও তাঁর চোখে ভাসে। পরবর্তীতে সহ-সভাপতি হিসেবে ক্লাবের নানা গঠনমূলক কাজে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং তাঁরই দেওয়া বিশেষ প্রস্তাবে ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু করার জন্য সভাপতিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কুণাল।পদ ছাড়লেও মোহনবাগান ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা যে বিন্দুমাত্র কমছে না, তাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই রাজনীতিক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে পদত্যাগের পরেও তিনি ক্লাবের আজীবন সাধারণ সদস্য ও সমর্থক হিসেবে গ্যালারিতেই থাকবেন এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেন তাঁর এই ইস্তফাপত্রটি অবিলম্বে গ্রহণ করে নেন। একই সাথে বর্তমান সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বোসের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, আপনাদের পরিচালনা ও কর্মসমিতির সক্রিয়তায় মোহনবাগান আগামী দিনে আরও অনেক দূর এগিয়ে চলুক। এখন দেখার, কুণালের এই আকস্মিক পদত্যাগের পর ক্লাবের অন্দরে নতুন কোনো রদবদল ঘটে কি না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার