Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ নবান্নে, কারা পাবেন এই সুবিধা? নিয়মাবলী স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ নবান্নে, কারা পাবেন এই সুবিধা? নিয়মাবলী স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী
FILE IMAGE

কলকাতা: রাজ্যবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবান্ন থেকে বহুকাঙ্ক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এই ফর্ম প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিকস্তরে বড়সড় রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলাশাসক, বিডিও এবং পুর কমিশনারদের এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বায়োমেট্রিক ও তথ্য যাচাইয়ের কাজের সুবিধার জন্য যাঁরা আধারের কাজ করেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রাখা হচ্ছে।


আবেদনপত্র প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশাল জনসংখ্যার এই রাজ্যে একদিনে সবার পক্ষে ফর্ম ফিলআপ করা সম্ভব নয়। তাই, অযথা তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকারি নিয়ম মেনে প্রত্যেকেই এই সুবিধা পাবেন। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার কেবল অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থই উপভোক্তাদের হাতে তুলে দিতে চায় না, বরং তাঁদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের নানাবিধ কল্যাণমুখী স্কিমের সঙ্গেও যুক্ত করতে আগ্রহী।


একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যে ইতিপূর্বেই আয়ুষ্মান ভারতের রেজিস্ট্রেশন এবং পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে, সাধারণ মানুষের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যতদিন না আয়ুষ্মান ভারতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে, ততদিন রাজ্যের কোনও নাগরিকই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।


রাজ্যে নারীদের জন্য চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে, স্ক্রুটিনিতে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ লক্ষের মতো মহিলা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প সচল থাকবে। তবে, যে মুহূর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে, ঠিক সেই সময় থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিষেবাটি বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী ২ জুনের মধ্যে যাঁরা ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে শুরু করবেন।


এই যোজনার সুবিধা কারা পাবেন না, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকাও আজ মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভারতীয় নাগরিক, আয়কর দাতা কিংবা সরকারি বা সরকার পোষিত সংস্থায় কর্মরত কোনও ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না এবং তাঁরা এই টাকা পাবেন না।


প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আপাতত আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন ধরে এই ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়াটি চলবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অফলাইন এবং অনলাইন — উভয় মাধ্যমেই আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ব্লক ও পৌরসভা এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক এবং পঞ্চায়েতস্তর থেকে সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্পন্ন করবেন।

বিষয় : LAKSHMIRBHANDAR SuvenduAdhikari annapurnayojana aushmanbharat nabannabriefing

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ নবান্নে, কারা পাবেন এই সুবিধা? নিয়মাবলী স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্যবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবান্ন থেকে বহুকাঙ্ক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এই ফর্ম প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিকস্তরে বড়সড় রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলাশাসক, বিডিও এবং পুর কমিশনারদের এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বায়োমেট্রিক ও তথ্য যাচাইয়ের কাজের সুবিধার জন্য যাঁরা আধারের কাজ করেন, তাঁদেরও এই প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রাখা হচ্ছে।আবেদনপত্র প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিশাল জনসংখ্যার এই রাজ্যে একদিনে সবার পক্ষে ফর্ম ফিলআপ করা সম্ভব নয়। তাই, অযথা তাড়াহুড়ো করার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকারি নিয়ম মেনে প্রত্যেকেই এই সুবিধা পাবেন। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার কেবল অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থই উপভোক্তাদের হাতে তুলে দিতে চায় না, বরং তাঁদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের নানাবিধ কল্যাণমুখী স্কিমের সঙ্গেও যুক্ত করতে আগ্রহী।একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রাজ্যে ইতিপূর্বেই আয়ুষ্মান ভারতের রেজিস্ট্রেশন এবং পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে, সাধারণ মানুষের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যতদিন না আয়ুষ্মান ভারতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে, ততদিন রাজ্যের কোনও নাগরিকই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।রাজ্যে নারীদের জন্য চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে, স্ক্রুটিনিতে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ লক্ষের মতো মহিলা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প সচল থাকবে। তবে, যে মুহূর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে, ঠিক সেই সময় থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিষেবাটি বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী ২ জুনের মধ্যে যাঁরা ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে শুরু করবেন।এই যোজনার সুবিধা কারা পাবেন না, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকাও আজ মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভারতীয় নাগরিক, আয়কর দাতা কিংবা সরকারি বা সরকার পোষিত সংস্থায় কর্মরত কোনও ব্যক্তি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না এবং তাঁরা এই টাকা পাবেন না।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আপাতত আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন ধরে এই ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়াটি চলবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অফলাইন এবং অনলাইন — উভয় মাধ্যমেই আবেদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি ব্লক ও পৌরসভা এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক এবং পঞ্চায়েতস্তর থেকে সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের কাজ সম্পন্ন করবেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার