Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তৃণমূল পার্টি অফিসের আলমারি খুলতেই চোখ চড়কগাছ! উদ্ধার গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড, তুলকালাম ট্যাংরায়!

তৃণমূল পার্টি অফিসের আলমারি খুলতেই চোখ চড়কগাছ! উদ্ধার গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড, তুলকালাম ট্যাংরায়!
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে ফের এক চরম রহস্যময় এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো। কলকাতার ট্যাংরা থানা এলাকার ইস্ট কুলিয়া রোডে অবস্থিত একটি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এই পার্টি অফিসটি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। 


বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দলবদ্ধ হয়ে ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা একটি লোহার আলমারি খুলতেই উদ্ধার হয় এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের আধার কার্ড। এই খবর চর্তুদ্দিকে ছড়িয়ে পড়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পার্টি অফিসের সামনে উপচে পড়ে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়। এলাকার বহু মানুষ আলমারি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে নিজেদের আধার কার্ড সনাক্ত করে তাজ্জব বনে যান।


এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্যাংরা জুড়ে এখন শুধুই রহস্য আর ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের অনেকেরই দাবি, তাঁদের আসল আধার কার্ড ইতিমধ্যেই বাড়িতে সযত্নে রাখা রয়েছে, তা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে দলীয় কার্যালয়ের আলমারির ভেতরে তাঁদের নামে আরও আধার কার্ড মজুত করে রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর কেউ দিতে পারছে না। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশের অভিযোগ, ডাকবিভাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঠিকানায় আধার কার্ড পৌঁছানোর আগেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডাকঘর থেকে সেগুলি নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতেন। 


এক ভুক্তভোগী মহিলা অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি তাঁর মেয়ের আধার কার্ড তৈরি করালেও দীর্ঘদিন ধরে তা হাতে পাননি, যা আজ এই পার্টি অফিসের আলমারি থেকে উদ্ধার হলো। এলাকার মানুষের একাংশের আরও মারাত্মক অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে ফেলে এই আধার কার্ডগুলি ব্যবহার করে হয়তো অতীতে কোনো বড়সড় জালিয়াতি বা ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরির চক্র চালানো হতো।


উল্লেখ্য, ট্যাংরার এই বিতর্কিত দলীয় কার্যালয়টি বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন কলকাতা পুরসভার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরসদস্য জীবনকুমার সাহা এবং তাঁর অনুগামীরা। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়ে তৃণমূলের কোনো নেতা বা কর্মীকে আর দেখা যায়নি, কার্যত সবাই বেপাত্তা।


 প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, সাধারণ নাগরিকদের এই অতি সংবেদনশীল নথি এভাবে রাজনৈতিক দলের অফিসে কেন এবং কী উদ্দেশ্যে লুকানো ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ট্যাংরা থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

বিষয় : 'kolkatanews tangrascam trinamooloffice adharcardmystery beleghataconstituency publicharasment

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তৃণমূল পার্টি অফিসের আলমারি খুলতেই চোখ চড়কগাছ! উদ্ধার গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড, তুলকালাম ট্যাংরায়!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে ফের এক চরম রহস্যময় এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো। কলকাতার ট্যাংরা থানা এলাকার ইস্ট কুলিয়া রোডে অবস্থিত একটি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো গুচ্ছ গুচ্ছ আধার কার্ড। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এই পার্টি অফিসটি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দলবদ্ধ হয়ে ওই কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা একটি লোহার আলমারি খুলতেই উদ্ধার হয় এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষের আধার কার্ড। এই খবর চর্তুদ্দিকে ছড়িয়ে পড়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পার্টি অফিসের সামনে উপচে পড়ে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়। এলাকার বহু মানুষ আলমারি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে নিজেদের আধার কার্ড সনাক্ত করে তাজ্জব বনে যান।এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্যাংরা জুড়ে এখন শুধুই রহস্য আর ধোঁয়াশা। স্থানীয়দের অনেকেরই দাবি, তাঁদের আসল আধার কার্ড ইতিমধ্যেই বাড়িতে সযত্নে রাখা রয়েছে, তা সত্ত্বেও কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে দলীয় কার্যালয়ের আলমারির ভেতরে তাঁদের নামে আরও আধার কার্ড মজুত করে রাখা হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর কেউ দিতে পারছে না। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশের অভিযোগ, ডাকবিভাগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঠিকানায় আধার কার্ড পৌঁছানোর আগেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডাকঘর থেকে সেগুলি নিজেদের কব্জায় নিয়ে নিতেন। এক ভুক্তভোগী মহিলা অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি তাঁর মেয়ের আধার কার্ড তৈরি করালেও দীর্ঘদিন ধরে তা হাতে পাননি, যা আজ এই পার্টি অফিসের আলমারি থেকে উদ্ধার হলো। এলাকার মানুষের একাংশের আরও মারাত্মক অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে ফেলে এই আধার কার্ডগুলি ব্যবহার করে হয়তো অতীতে কোনো বড়সড় জালিয়াতি বা ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরির চক্র চালানো হতো।উল্লেখ্য, ট্যাংরার এই বিতর্কিত দলীয় কার্যালয়টি বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে পর্যন্ত এই কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন কলকাতা পুরসভার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরসদস্য জীবনকুমার সাহা এবং তাঁর অনুগামীরা। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়ে তৃণমূলের কোনো নেতা বা কর্মীকে আর দেখা যায়নি, কার্যত সবাই বেপাত্তা। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা না হলেও, সাধারণ নাগরিকদের এই অতি সংবেদনশীল নথি এভাবে রাজনৈতিক দলের অফিসে কেন এবং কী উদ্দেশ্যে লুকানো ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ট্যাংরা থানায় অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার