কলকাতা: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই জেল হেফাজতে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতা সুজিত বসু। কিন্তু এবার গরাদের আড়ালে বসেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এক মস্ত বড় আইনি পদক্ষেপ নিলেন তিনি। নিজের গ্রেফতারিকে সম্পূর্ণ বেআইনি দাবি করে এবং ইডির এক্তিয়ারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সুজিত বসু। বৃহস্পতিবার সুজিতের আইনজীবী এই অতি সংবেদনশীল বিষয়টির দিকে হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত মামলা দায়ের করার সবুজ সংকেত দেয়। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের একক বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার জরুরি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় চলছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে।
উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের পর্ব মিটতেই গত ১১ মে সুজিত বসুকে দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে গ্রেফতারির আগে এবং ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন সুজিতকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। সেই সময় তিনি ভোটের প্রচারে চূড়ান্ত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ালেও, ভোট মিটতেই গত ১ মে সল্টলেকের ইডি দফতরে গিয়ে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেদিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, গত ১১ মে আইনজীবী ও পুত্র সমুদ্র বসুকে সাথে নিয়ে পুনরায় সিজিও কমপ্লেক্সে গেলে আর শেষ রক্ষা হয়নি। ইডি আধিকারিকদের দাবি, সাড়ে ১০ ঘণ্টার জেরা পর্বে একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর না মেলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ইডি ও কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কমবেশি ১৫০ জন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করার এক মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন এই দাপুটে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত কোটি কোটি টাকা সুজিতবাবুর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করছে ইডি, যার কারণে তাঁর ও পরিবারের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, গ্রেফতারির ঠিক আগেই সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এমনকি তাঁর মালিকানাধীন বিখ্যাত ধাবাতেও ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়লেও বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন সুজিত বসু। আর এই রাজনৈতিক পতনের পরপরই তাঁর এই আইনি লড়াই আগামী দিনে কী মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বাংলার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন