Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

১২ পাতার ফর্মে আমজনতার নাভিশ্বাস! ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে মা-বোনেদের জন্য কী বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?

১২ পাতার ফর্মে আমজনতার নাভিশ্বাস! ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে মা-বোনেদের জন্য কী বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: নতুন সরকারের মেগা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম হাত পেতেই রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রকল্প চালু হলেও, ১২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ফর্ম এবং তার সঙ্গে একগাদা নথির চাওয়া নথি জোগাড় করতে গিয়ে উপভোক্তাদের কার্যত কালঘাম ছুটার জোগাড় হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি ও চিন্তা দূর করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলার মা-বোনেদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে এই দীর্ঘ ফর্মের সরলীকরণ বা বদল করা হতে পারে এবং এই বিষয়ে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।


বিজেপির অন্যতম বড় এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অনুমোদন পেয়েছিল। গত বুধবার অফিশিয়ালি ফর্ম প্রকাশ পেতেই সাইবার ক্যাফে ও সরকারি দফতরগুলিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে ১২ পাতার এই বিশাল ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের জমি-জায়গার দলিল, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি, পরিচয়পত্র ও যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়ায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই জটিলতা নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবশ্য কিছুটা কড়া সুরেই জানান যে, ভবিষ্যতে সব সরলীকরণ হবে ঠিকই, কিন্তু যাকে ইচ্ছে তাকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশিরা এর অপব্যবহার করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, এত বড় একটা প্রকল্পের কাজে কিছু তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে হবে। অন্যদিকে, নারী-শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উপভোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আবেদনকারীদের একটি বিশেষ অনুরোধ করেছেন। তিনি জানান যে, আপাতত আয়করের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাকি ডেটাগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রহ করে রাখতে চাওয়া হচ্ছে। তাই মা-বোনেদের ফর্মে কোনও অসত্য তথ্য না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে এবং ভুল তথ্য দিলে আবেদনকারী চিহ্নিত হয়ে যাবেন। সরকার চায় প্রকৃত গরিব মা–বোনেরাই এই টাকা পান।


এদিকে ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, এই ফর্মের মাধ্যমেই আসলে রাজ্য সরকার নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা সংগ্রহ করছে, আর সেই কারণেই ফর্মটি এত দীর্ঘ হয়েছে। তবে মানুষের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকি স্থানীয় বিধায়কদেরও এই কাজে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফলাইনে এই ফর্ম বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন এবং পূরণ করার পর তা কাছাকাছি সরকারি অফিসে জমা নেওয়া হবে।


সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভিড় এড়াতে নবান্ন সূত্রে এক বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প বা ‘সহায়তা শিবির’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া শেষ হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নবান্নের তরফ থেকে চূড়ান্ত কোনও সরকারি গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তবুও প্রতিটি ব্লকের বিডিও-দের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদান করা, যাতে কোথাও কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সেই নিয়ম মেনেই ধাপে ধাপে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং পরিষেবা বণ্টনের ওপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

বিষয় : DilipGhosh westbengalgovernment SuvenduAdhikari AGNIMITRAPAUL annapurnayojana socialscheme

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


১২ পাতার ফর্মে আমজনতার নাভিশ্বাস! ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে মা-বোনেদের জন্য কী বড় ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা?

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: নতুন সরকারের মেগা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম হাত পেতেই রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। পূর্বতন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রকল্প চালু হলেও, ১২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ফর্ম এবং তার সঙ্গে একগাদা নথির চাওয়া নথি জোগাড় করতে গিয়ে উপভোক্তাদের কার্যত কালঘাম ছুটার জোগাড় হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি ও চিন্তা দূর করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলার মা-বোনেদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে এই দীর্ঘ ফর্মের সরলীকরণ বা বদল করা হতে পারে এবং এই বিষয়ে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।বিজেপির অন্যতম বড় এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অনুমোদন পেয়েছিল। গত বুধবার অফিশিয়ালি ফর্ম প্রকাশ পেতেই সাইবার ক্যাফে ও সরকারি দফতরগুলিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে ১২ পাতার এই বিশাল ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের জমি-জায়গার দলিল, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি, পরিচয়পত্র ও যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়ায় বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এই জটিলতা নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবশ্য কিছুটা কড়া সুরেই জানান যে, ভবিষ্যতে সব সরলীকরণ হবে ঠিকই, কিন্তু যাকে ইচ্ছে তাকে এই সুবিধা দেওয়া হবে না, যাতে বাংলাদেশিরা এর অপব্যবহার করতে না পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, এত বড় একটা প্রকল্পের কাজে কিছু তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে হবে। অন্যদিকে, নারী-শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উপভোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আবেদনকারীদের একটি বিশেষ অনুরোধ করেছেন। তিনি জানান যে, আপাতত আয়করের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাকি ডেটাগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রহ করে রাখতে চাওয়া হচ্ছে। তাই মা-বোনেদের ফর্মে কোনও অসত্য তথ্য না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চলবে এবং ভুল তথ্য দিলে আবেদনকারী চিহ্নিত হয়ে যাবেন। সরকার চায় প্রকৃত গরিব মা–বোনেরাই এই টাকা পান।এদিকে ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, এই ফর্মের মাধ্যমেই আসলে রাজ্য সরকার নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা সংগ্রহ করছে, আর সেই কারণেই ফর্মটি এত দীর্ঘ হয়েছে। তবে মানুষের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। যাঁরা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্যের জন্য সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকি স্থানীয় বিধায়কদেরও এই কাজে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফলাইনে এই ফর্ম বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা এবং ওয়ার্ড অফিস থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন এবং পূরণ করার পর তা কাছাকাছি সরকারি অফিসে জমা নেওয়া হবে।সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ভিড় এড়াতে নবান্ন সূত্রে এক বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ ক্যাম্প বা ‘সহায়তা শিবির’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে সফল করতে ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া শেষ হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নবান্নের তরফ থেকে চূড়ান্ত কোনও সরকারি গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তবুও প্রতিটি ব্লকের বিডিও-দের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিষেবা প্রদান করা, যাতে কোথাও কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সেই নিয়ম মেনেই ধাপে ধাপে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং পরিষেবা বণ্টনের ওপর জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার