Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বর্ডার পার হতে নিজেই সাহায্য করবে সরকার! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অমিত শাহের সবচেয়ে বড় 'বাম্পার' ঘোষণা

বর্ডার পার হতে নিজেই সাহায্য করবে সরকার! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অমিত শাহের সবচেয়ে বড় 'বাম্পার' ঘোষণা
ছবি--প্রতীকী

 বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া সেই বিখ্যাত ৩ডি অ্যাকশন— অর্থাৎ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’। জেলায় জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হতেই এবার রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। আইনি জাঁতাকল ও শাস্তির ভয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশী এখন নিজে থেকেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বর্ডারমুখী হতে শুরু করেছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর চেক পোস্টে এখন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের উপচে পড়া ভিড়। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই গুজরাট সফর থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


তিনদিনের গুজরাট সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় ক্ষমতা বদলের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সীমান্ত এলাকার পুরো চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। যে বাংলায় আগে প্রতিদিন হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী দেদার ঢুকত, আজ সেখানে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। অমিত শাহের কথায়, "বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি শপথ নিয়েছেন, আর এই পরিবর্তনের প্রভাব হাতেনাতে চোখে পড়ছে। আগে যেখানে রোজ ৫ থেকে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢুকত, এখন প্রতিদিন ঠিক ততসংখ্যক মানুষই উল্টো দেশ ছেড়ে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে।" এই প্রসঙ্গ টেনেই অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় সুযোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা যদি সম্পূর্ণ নিজে থেকে বা স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যান, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ বা কেস ফাইল করবে না। উল্টে, কোনও রকম বাধা ছাড়া তাঁরা যাতে নিরাপদে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেন, তার জন্য সব রকম প্রশাসনিক সাহায্য করবে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার।


পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে আগের সরকার পশ্চিমবঙ্গে নির্বিচারে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর পাশে আছেন এবং দেশে বা রাজ্যে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। শাহ আরও কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দেশে এটা সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে, এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের শেষ অধিকার শুধুমাত্র এদেশের প্রকৃত নাগরিকদের হাতেই থাকবে, কোনও অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগতদের হাতে নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে হোল্ডিং সেন্টারের ভয় এবং অন্যদিকে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়লে আইনি ছাড়ের এই ‘সেফ প্যাসেজ’ ঘোষণা— শাহের এই দ্বিমুখী কৌশলের জেরে আগামী দিনে বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে।

বিষয় : AmitShah BASIRHATNEWS BorderSecurity bengalpoitics

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


বর্ডার পার হতে নিজেই সাহায্য করবে সরকার! অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অমিত শাহের সবচেয়ে বড় 'বাম্পার' ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
 বাংলায় বিজেপি সরকার আসতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া সেই বিখ্যাত ৩ডি অ্যাকশন— অর্থাৎ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’। জেলায় জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হতেই এবার রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। আইনি জাঁতাকল ও শাস্তির ভয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশী এখন নিজে থেকেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে বর্ডারমুখী হতে শুরু করেছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর চেক পোস্টে এখন বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের উপচে পড়া ভিড়। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই গুজরাট সফর থেকে অবৈধ বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।তিনদিনের গুজরাট সফরে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় ক্ষমতা বদলের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সীমান্ত এলাকার পুরো চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। যে বাংলায় আগে প্রতিদিন হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী দেদার ঢুকত, আজ সেখানে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। অমিত শাহের কথায়, "বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি শপথ নিয়েছেন, আর এই পরিবর্তনের প্রভাব হাতেনাতে চোখে পড়ছে। আগে যেখানে রোজ ৫ থেকে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী ভারতে ঢুকত, এখন প্রতিদিন ঠিক ততসংখ্যক মানুষই উল্টো দেশ ছেড়ে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে।" এই প্রসঙ্গ টেনেই অনুপ্রবেশকারীদের একটি বড় সুযোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা যদি সম্পূর্ণ নিজে থেকে বা স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যান, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও আইনি পদক্ষেপ বা কেস ফাইল করবে না। উল্টে, কোনও রকম বাধা ছাড়া তাঁরা যাতে নিরাপদে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেন, তার জন্য সব রকম প্রশাসনিক সাহায্য করবে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন বিজেপি সরকার।পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে আগের সরকার পশ্চিমবঙ্গে নির্বিচারে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়েছে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর পাশে আছেন এবং দেশে বা রাজ্যে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না। শাহ আরও কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার দেশে এটা সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে যে, এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের শেষ অধিকার শুধুমাত্র এদেশের প্রকৃত নাগরিকদের হাতেই থাকবে, কোনও অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগতদের হাতে নয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে হোল্ডিং সেন্টারের ভয় এবং অন্যদিকে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়লে আইনি ছাড়ের এই ‘সেফ প্যাসেজ’ ঘোষণা— শাহের এই দ্বিমুখী কৌশলের জেরে আগামী দিনে বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার