নয়াদিল্লি: দেশের রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় জঙ্গি হামলার এক ভয়ঙ্কর ছক বানচাল করল পুলিশ। দিল্লির একাধিক স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগে শনিবার ন'জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। ধৃতরা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ডি-কোম্পানি নেটওয়ার্কের মদতপুষ্ট একটি ‘জঙ্গি মডিউল’-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম ও পরিচয় এখনও পর্যন্ত তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে, শনিবারের এই বিশেষ অভিযানের পর ধৃতদের হেফাজত থেকে প্রচুর পরিমাণে বিপজ্জনক বিস্ফোরক পদার্থ এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল দীর্ঘদিন ধরে এই মডিউলটির ওপর নজর রাখছিল। সেই সূত্র ধরেই শনিবার গোপন ডেরায় হানা দিয়ে এই ন'জনকে পাকড়াও করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই এবং মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘হ্যান্ডলার’ বা চাঁইদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সীমান্তের ওপার এবং বিদেশের মাটিতে বসেই মূলত এই মডিউলটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই মডিউলটি সচল রাখতে ভারতের বাইরে থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক মদত বা হাওয়ালা মারফত টাকা পাঠানো হচ্ছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।
দিল্লি পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, রাজধানীর বেশ কিছু স্পর্শকাতর এলাকা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামোয় একযোগে আত্মঘাতী বা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই অভিযুক্তদের। এই চক্রের জাল ভারতের আর কোন-কোন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর পিছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক ঠিক কোন রুট দিয়ে দিল্লিতে ঢুকল, তা-ও খতিয়ে দেখছেন স্পেশ্যাল সেলের গোয়েন্দারা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন