কলকাতা: খাস কলকাতার বুকেই যেন এক হাড়হিম করা ক্রাইম থ্রিলারের বাস্তব চিত্রনাট্য! দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা গল্ফ গ্রিনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হলো এক লিভ-ইন যুগলের পচাগলা দেহ। কিন্তু শুধু দেহ উদ্ধারই নয়, ফ্ল্যাটের ভেতরের দৃশ্য দেখে কার্যত থমকে গিয়েছেন দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। ঘরের চারদিকে তখন ছড়ানো ছিটানো অজস্র মাদক, বাতাসে ভাসছে লাশের তীব্র পচন ধরা গন্ধ, আর সেই নরককুণ্ডের মধ্যেই অর্ধউলঙ্গ ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন যুগলের আরও তিন বন্ধু-বান্ধবী! রবিবার দুপুরে গল্ফ গ্রিনের অরবিন্দ নগরের এই রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ছাব্বিশের যুবক এম ডি দিলশাদ এবং বছর একুশের এক তরুণী গত ৪ এপ্রিল গল্ফ গ্রিনের এই ফ্ল্যাটটিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে এসেছিলেন। দিলশাদের আসল বাড়ি তিলজলায় এবং তরুণীর বাড়ি রামগড় এলাকায়। তাঁরা দুজনে এখানে লিভ-ইন পার্টনার হিসেবে থাকতেন। প্রতিবেশীদের দাবি, শনিবার বিকেল থেকেই ওই ফ্ল্যাটের চারপাশ থেকে একটি অদ্ভুত ও তীব্র পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। প্রথমে কেউ সেভাবে পাত্তা না দিলেও, রবিবার সকালে গন্ধের তীব্রতা অসহ্য হয়ে উঠলে বাসিন্দারা উৎস খুঁজতে শুরু করেন। গন্ধটি যে ওই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট থেকেই আসছে তা নিশ্চিত হওয়ার পর তড়িঘড়ি গল্ফ গ্রিন থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই উদ্ধার হয় দিলশাদ ও ওই তরুণীর পচাগলা বিকৃত দেহ।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, ঘরের ভেতরে ও খাটের ওপর প্রচুর পরিমাণ মাদক জাতীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগে যখন দেখা যায়, ওই দুটি পচাগলা দেহের সঙ্গেই ঘরের ভেতরে চরম নেশাগ্রস্ত ও প্রায় অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন আরও দুই যুবক এবং এক যুবতী, যাঁরা মৃত যুগলের বন্ধু-বান্ধবী হিসেবে পরিচিত। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, শনিবার রাতে সম্ভবত ওই ফ্ল্যাটে মোট চারটি ছেলেমেয়ে ছিল। মৃত যুবকটির মুখ সম্পূর্ণ কালো হয়ে গিয়েছিল এবং তা দেখার মতো অবস্থায় ছিল না। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বাকি তিন বন্ধু এতটাই গভীর নেশায় বুঁদ ছিলেন যে তাঁদের পাশেই তাঁদের বন্ধুদের শরীরে পচন ধরে গন্ধ বেরোচ্ছে, অথচ সেই হুঁশটুকুও তাঁদের ছিল না। পুলিশ ওই তিনজনকে তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে ইতিমধ্যেই আটক হওয়া তরুণীর মা এবং এক তরুণের বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে পুলিশ। অতিরিক্ত মাদক সেবনের বা ‘ওভারডোজের’ জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে গল্ফ গ্রিন থানার পুলিশ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন