Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মুখ্যমন্ত্রীর মেগা সিক্রেট ফাঁসের ১৫ মিনিটেই চরম অ্যাকশন! ঘাসফুল শিবির থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূলেরই দুই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক

মুখ্যমন্ত্রীর মেগা সিক্রেট ফাঁসের ১৫ মিনিটেই চরম অ্যাকশন! ঘাসফুল শিবির থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূলেরই দুই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: বিধানসভার হাইপ্রোফাইল সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন এবং ভয়ঙ্কর ওলটপালট। দলবিরোধী কাজের সরাসরি অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, বহিষ্কারের এই চরম সিদ্ধান্ত সোমবারই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ইমেল ও হোয়াট্‌সঅ্যাপ মারফত তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠক, যা গোটা বিষয়টিকে এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে।


সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি সই-কাণ্ডের আসল উৎসটি ফাঁস করে জানান যে, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন স্বয়ং স্পিকারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। সেই লিখিত চিঠির ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করে। শুভেন্দুবাবু আরও যোগ করেন, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি এর গভীরতা বুঝে সিআইডি-কে তদন্তভার দেওয়ার নির্দেশ দেন। ঠিক এই সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কারের কড়া সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বহিষ্কারের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল আজ তাদেরই সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না যে একটা সাধারণ হাজিরা খাতার সইকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবের সই বলে চালিয়ে দেওয়া হবে।”


রাজনৈতিক ও পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এই দুই বিধায়ক এখন বিধানসভায় সম্পূর্ণ ‘দলহীন’ বা নির্দল হিসাবেই থাকবেন। ফলে রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে দলের হুইপ কিংবা নির্দেশ মানতে তাঁরা আর আইনিভাবে বাধ্য থাকবেন না, এমনকি তৃণমূলও চট করে তাঁদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন জানাতে পারবে না। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কারের এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ সালে সিপিএমের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া ঋতব্রতকে ২০১৭ সালে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল আলিমুদ্দিন। সেবারও তিন বছর তিনি সংসদে দলহীন ছিলেন। পরবর্তীতে আরজি কর-কাণ্ডের আবহে জহর সরকার ইস্তফা দিলে তৃণমূলের টিকিটে দেড় বছরের জন্য ফের রাজ্যসভায় যান ঋতব্রত এবং পরে তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করেছিলেন মমতা ও অভিষেক। কিন্তু ছাব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের পর ফের একবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এক অনন্য রাজনৈতিক রেকর্ডের অধিকারী হলেন ঋতব্রত।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari ritabratabanerjee sandipansaha

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মুখ্যমন্ত্রীর মেগা সিক্রেট ফাঁসের ১৫ মিনিটেই চরম অ্যাকশন! ঘাসফুল শিবির থেকে বহিষ্কৃত তৃণমূলেরই দুই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বিধানসভার হাইপ্রোফাইল সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন এবং ভয়ঙ্কর ওলটপালট। দলবিরোধী কাজের সরাসরি অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, বহিষ্কারের এই চরম সিদ্ধান্ত সোমবারই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ইমেল ও হোয়াট্‌সঅ্যাপ মারফত তৎক্ষণাৎ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠক, যা গোটা বিষয়টিকে এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছে।সোমবার দুপুরে নবান্ন থেকে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি সই-কাণ্ডের আসল উৎসটি ফাঁস করে জানান যে, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন স্বয়ং স্পিকারকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। সেই লিখিত চিঠির ভিত্তিতেই বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করে। শুভেন্দুবাবু আরও যোগ করেন, পুলিশমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাছে বিষয়টি আসার পরেই তিনি এর গভীরতা বুঝে সিআইডি-কে তদন্তভার দেওয়ার নির্দেশ দেন। ঠিক এই সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কারের কড়া সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বহিষ্কারের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, “যারা অনৈতিক কাজ করে, দল আজ তাদেরই সমর্থন করে। আর যারা নৈতিক কাজ করে, তাদের বহিষ্কার করে। আমরা তো জানতামই না যে একটা সাধারণ হাজিরা খাতার সইকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবের সই বলে চালিয়ে দেওয়া হবে।”রাজনৈতিক ও পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এই দুই বিধায়ক এখন বিধানসভায় সম্পূর্ণ ‘দলহীন’ বা নির্দল হিসাবেই থাকবেন। ফলে রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে দলের হুইপ কিংবা নির্দেশ মানতে তাঁরা আর আইনিভাবে বাধ্য থাকবেন না, এমনকি তৃণমূলও চট করে তাঁদের বিধায়ক পদ বাতিলের আবেদন জানাতে পারবে না। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কারের এই অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ সালে সিপিএমের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া ঋতব্রতকে ২০১৭ সালে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিল আলিমুদ্দিন। সেবারও তিন বছর তিনি সংসদে দলহীন ছিলেন। পরবর্তীতে আরজি কর-কাণ্ডের আবহে জহর সরকার ইস্তফা দিলে তৃণমূলের টিকিটে দেড় বছরের জন্য ফের রাজ্যসভায় যান ঋতব্রত এবং পরে তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করেছিলেন মমতা ও অভিষেক। কিন্তু ছাব্বিশের ক্ষমতার পালাবদলের পর ফের একবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এক অনন্য রাজনৈতিক রেকর্ডের অধিকারী হলেন ঋতব্রত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার