Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘প্রধানমন্ত্রী আম নিয়ে ব্যস্ত, অথচ...’ সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদীর নীরবতায় গর্জে উঠলেন রাহুল!

‘প্রধানমন্ত্রী আম নিয়ে ব্যস্ত, অথচ...’ সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদীর নীরবতায় গর্জে উঠলেন রাহুল!
FILE IMAGE

নয়াদিল্লি: নিট (NEET) বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল দাবি করেন, সিবিএসই কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘ নীরবতা এখন আর কেবল সাধারণ উদাসীনতা নয়, তা আসলে অপরাধের সহযোগিতা করার শামিল। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, টেন্ডারের শর্ত বদলে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোন দিয়ে দায়সারাভাবে উত্তরপত্র স্ক্যান করার জেরে দেশের প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ নাবালক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ আজ চরম অন্ধকারের মুখে দাঁড়িয়েছে।


নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সিবিএসই-র টেন্ডার প্রক্রিয়ার এক চাঞ্চল্যকর গরমিল তুলে ধরেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, গত মে মাসে সিবিএসই-র জারি করা টেন্ডারে স্পষ্ট শর্ত ছিল যে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলি উন্নত স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করতে হবে, যাতে খাতার বাঁধাই অক্ষত থাকে এবং স্ক্যানিংয়ের রেজোলিউশন হতে হবে ন্যূনতম ৩০০ ডিপিআই (DPI)। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আগস্ট মাসে যখন সেই টেন্ডার পুনরায় জারি করা হয়, তখন নিঃশব্দে সেই সমস্ত কড়া শর্তই বাদ দিয়ে দেওয়া হয় এবং রেজোলিউশন কমিয়ে নামিয়ে আনা হয় ২০০ ডিপিআই-তে। রাহুল গান্ধীর দাবি, ‘COEMPT’ নামক একটি সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই চুক্তি সাজানো হয়েছিল, যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে এখন জানা যাচ্ছে যে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলি স্ক্যান করার জন্য সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঝাপসা কপি, হারিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা কিংবা স্ক্যান না হওয়া খাতার জন্য ভুল মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতির শিকার।


প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানকে খোঁচা দিয়ে রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর আম নিয়ে কথা বলার সময় হয়েছে, বাংলার হিমসাগর আমের ভূয়সী প্রশংসা করার সময় হয়েছে, কিন্তু যে সাড়ে ১৮ লক্ষ নাবালকের খাতা মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করা হলো, তাদের বিষয়ে কথা বলার সময় তাঁর নেই।” এই মহা-কেলেঙ্কারির পরও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন নিজের পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, এই বিপুল বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তা সংশোধনের জন্য আইআইটি মাদ্রাজ ও আইআইটি কানপুর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন। সিবিএসই সংস্থাও নিজেদের পদ্ধতিগত ভুল স্বীকার করে নিয়ে তা শুধরে নেওয়ার বার্তা দিলেও, নতুন বিজেপি সরকারের আমলে শিক্ষাদপ্তরের এই একের পর এক বিপর্যয় নিয়ে দেশজুড়ে আমজনতা ও ছাত্র সমাজের ক্ষোভের পারদ চড়চড় করে বাড়ছে।

বিষয় : NarendraModi rahulgandhi delhipolitics cbsecam educationcrisis

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘প্রধানমন্ত্রী আম নিয়ে ব্যস্ত, অথচ...’ সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদীর নীরবতায় গর্জে উঠলেন রাহুল!

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: নিট (NEET) বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল দাবি করেন, সিবিএসই কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দীর্ঘ নীরবতা এখন আর কেবল সাধারণ উদাসীনতা নয়, তা আসলে অপরাধের সহযোগিতা করার শামিল। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, টেন্ডারের শর্ত বদলে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোন দিয়ে দায়সারাভাবে উত্তরপত্র স্ক্যান করার জেরে দেশের প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ নাবালক পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ আজ চরম অন্ধকারের মুখে দাঁড়িয়েছে।নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সিবিএসই-র টেন্ডার প্রক্রিয়ার এক চাঞ্চল্যকর গরমিল তুলে ধরেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, গত মে মাসে সিবিএসই-র জারি করা টেন্ডারে স্পষ্ট শর্ত ছিল যে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলি উন্নত স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক স্ক্যানার দিয়ে স্ক্যান করতে হবে, যাতে খাতার বাঁধাই অক্ষত থাকে এবং স্ক্যানিংয়ের রেজোলিউশন হতে হবে ন্যূনতম ৩০০ ডিপিআই (DPI)। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আগস্ট মাসে যখন সেই টেন্ডার পুনরায় জারি করা হয়, তখন নিঃশব্দে সেই সমস্ত কড়া শর্তই বাদ দিয়ে দেওয়া হয় এবং রেজোলিউশন কমিয়ে নামিয়ে আনা হয় ২০০ ডিপিআই-তে। রাহুল গান্ধীর দাবি, ‘COEMPT’ নামক একটি সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই চুক্তি সাজানো হয়েছিল, যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে এখন জানা যাচ্ছে যে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলি স্ক্যান করার জন্য সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঝাপসা কপি, হারিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা কিংবা স্ক্যান না হওয়া খাতার জন্য ভুল মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং সাড়ে ১৮ লক্ষ পড়ুয়া এই প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতির শিকার।প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানকে খোঁচা দিয়ে রাহুল গান্ধী তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর আম নিয়ে কথা বলার সময় হয়েছে, বাংলার হিমসাগর আমের ভূয়সী প্রশংসা করার সময় হয়েছে, কিন্তু যে সাড়ে ১৮ লক্ষ নাবালকের খাতা মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করা হলো, তাদের বিষয়ে কথা বলার সময় তাঁর নেই।” এই মহা-কেলেঙ্কারির পরও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন নিজের পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, এই বিপুল বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কিছু প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন এবং তা সংশোধনের জন্য আইআইটি মাদ্রাজ ও আইআইটি কানপুর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন। সিবিএসই সংস্থাও নিজেদের পদ্ধতিগত ভুল স্বীকার করে নিয়ে তা শুধরে নেওয়ার বার্তা দিলেও, নতুন বিজেপি সরকারের আমলে শিক্ষাদপ্তরের এই একের পর এক বিপর্যয় নিয়ে দেশজুড়ে আমজনতা ও ছাত্র সমাজের ক্ষোভের পারদ চড়চড় করে বাড়ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার