Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘আমি মুখ খুললে অনেকেরই জেল হবে!’ দল থেকে তাড়াতেই তৃণমূলের হাঁড়ি হাটে ভাঙলেন বিধায়ক ঋতব্রত

‘আমি মুখ খুললে অনেকেরই জেল হবে!’ দল থেকে তাড়াতেই তৃণমূলের হাঁড়ি হাটে ভাঙলেন বিধায়ক ঋতব্রত
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: সই জাল কাণ্ডের জেরে এমনিতেই চরম অস্বস্তিতে ছিল দল, আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের অন্দরে আছড়ে পড়ল এক বিরাট রাজনৈতিক সুনামি। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সোমবার দুপুরে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কৃত হতেই যেন উল্টো মার মারলেন ঋতব্রত। দল থেকে বাদ পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দুর্নীতির বোমা ফাটালেন তিনি। সাফ জানালেন, তৃণমূলের জামানার এমন অনেক গোপন তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে যা ফাঁস হলে তোলপাড় হবে রাজ্য।


রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরেই সই জাল কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছিল, যা সরাসরি তৃণমূলের জালিয়াতিকে সাধারণ মানুষের সামনে এনে ফেলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই চরম অস্বস্তি ঢাকতেই তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবে সোমবার দুপুরে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই খবর চাউর হতেই যখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়, ঠিক তখনই পাল্টা রণংদেহী মেজাজে ক্যামেরার সামনে চলে আসেন সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।


তৃণমূল জমানার একাধিক দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে ঋতব্রত এদিন প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার সমস্ত তথ্য আমার কাছে রয়েছে। আমি যা যা জানি, এবার সব বলব।” এতদিন কেন চুপ ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক স্পষ্ট জানান যে বিগত সরকারের আমলে তাঁর তীব্র প্রাণের ভয় ছিল, আর সেই কারণেই তিনি মুখ খুলতে পারেননি। তবে রাজ্যে এখন নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে বলেই তিনি এই সাহস পাচ্ছেন। উলুবেড়িয়া পুরসভায় টেন্ডার না ডেকেই প্রায় ১০ হাজার ঘর চুরির মতো মারাত্মক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এই সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে তিনি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে চিঠি লিখতে চলেছেন।


দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি যে সহজে ময়দান ছাড়ছেন না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের এই বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে খোদ দলেরই একটা বড় অংশ তাঁকে হারানোর জন্য সবরকম চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু উলুবেড়িয়ার সাধারণ মানুষ তাঁকে জিতিয়েছেন। তাই দল তাড়ালেও তিনি কোনোভাবেই বিধায়ক পদ ছাড়বেন না এবং উলুবেড়িয়ার মানুষের স্বার্থে এলাকার কাজ চালিয়ে যাবেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রতের এই বেনজির আক্রমণের পর স্বভাবতই ব্যাকফুটে তৃণমূল, আর এই ঘটনায় নতুন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।

বিষয় : TMC BengalPolitics ritabratabanerjee CORRUPTIONSCAM

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘আমি মুখ খুললে অনেকেরই জেল হবে!’ দল থেকে তাড়াতেই তৃণমূলের হাঁড়ি হাটে ভাঙলেন বিধায়ক ঋতব্রত

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সই জাল কাণ্ডের জেরে এমনিতেই চরম অস্বস্তিতে ছিল দল, আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের অন্দরে আছড়ে পড়ল এক বিরাট রাজনৈতিক সুনামি। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সোমবার দুপুরে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কৃত হতেই যেন উল্টো মার মারলেন ঋতব্রত। দল থেকে বাদ পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দুর্নীতির বোমা ফাটালেন তিনি। সাফ জানালেন, তৃণমূলের জামানার এমন অনেক গোপন তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে যা ফাঁস হলে তোলপাড় হবে রাজ্য।রাজ্য রাজনীতিতে গত কয়েকদিন ধরেই সই জাল কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছিল, যা সরাসরি তৃণমূলের জালিয়াতিকে সাধারণ মানুষের সামনে এনে ফেলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই চরম অস্বস্তি ঢাকতেই তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবে সোমবার দুপুরে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই খবর চাউর হতেই যখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়, ঠিক তখনই পাল্টা রণংদেহী মেজাজে ক্যামেরার সামনে চলে আসেন সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।তৃণমূল জমানার একাধিক দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে ঋতব্রত এদিন প্রকাশ্যেই চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন। তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার সমস্ত তথ্য আমার কাছে রয়েছে। আমি যা যা জানি, এবার সব বলব।” এতদিন কেন চুপ ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক স্পষ্ট জানান যে বিগত সরকারের আমলে তাঁর তীব্র প্রাণের ভয় ছিল, আর সেই কারণেই তিনি মুখ খুলতে পারেননি। তবে রাজ্যে এখন নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে বলেই তিনি এই সাহস পাচ্ছেন। উলুবেড়িয়া পুরসভায় টেন্ডার না ডেকেই প্রায় ১০ হাজার ঘর চুরির মতো মারাত্মক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এই সমস্ত দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে তিনি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে চিঠি লিখতে চলেছেন।দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি যে সহজে ময়দান ছাড়ছেন না, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের এই বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে খোদ দলেরই একটা বড় অংশ তাঁকে হারানোর জন্য সবরকম চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু উলুবেড়িয়ার সাধারণ মানুষ তাঁকে জিতিয়েছেন। তাই দল তাড়ালেও তিনি কোনোভাবেই বিধায়ক পদ ছাড়বেন না এবং উলুবেড়িয়ার মানুষের স্বার্থে এলাকার কাজ চালিয়ে যাবেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রতের এই বেনজির আক্রমণের পর স্বভাবতই ব্যাকফুটে তৃণমূল, আর এই ঘটনায় নতুন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার