Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে দিলেন মমতা! ধর্মতলায় চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে ধুন্ধুমার তৃণমূল কর্মীদের?

মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে দিলেন মমতা! ধর্মতলায় চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে ধুন্ধুমার তৃণমূল কর্মীদের?
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমবার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই কামব্যাক কর্মসূচি ঘিরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ধর্মতলা চত্বর। সভাস্থলে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার জেরে বাধ্য হয়ে মাঝপথেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দিতে হলো তৃণমূল সুপ্রিমোকে। এদিন দুপুরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে রেড রোডে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


 সেখানে বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনের মতো হেভিওয়েট নেতারা। সেখান থেকে মমতা পৌঁছন ধর্মতলার ওয়াই (Y) চ্যানেলে দলের ধরনামঞ্চে। সেখানে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধরনার অনুমতি ছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সভাস্থলে উপস্থিত থাকা দলীয় কর্মীদের একাংশের আচরণে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোড়াফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। এই তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচির জেরে তৃণমূলনেত্রীর ভাষণ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাইক হাতে নিজের দলীয় কর্মীদেরই সংযত ও শান্ত থাকার কড়া বার্তা দেন মমতা।


ধর্মতলার এই উত্তপ্ত মঞ্চ থেকেই নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে তিনি তোপ দাগেন, “বিজেপি আমাদের দলটাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। বেআইনি ভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে দলবদল করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ওদের সেই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।” প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে প্রথমে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এই মেগা ধরনা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা। 


কিন্তু কড়া নিরাপত্তার অজুহাতে সোমবার রাতেই পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রানি রাসমণি রোডে কোনোভাবেই বসা যাবে না, বিকল্প হিসেবে মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য ওয়াই চ্যানেলে বসার অনুমতি দেওয়া হবে। পুলিশের এই ধরপাকড় ও আইনি জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ আমাদের বলছে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার জন্য নতুন করে অনুমতি নিতে হবে! এটা কি আদৌ সম্ভব? তাহলে এত আগে বলল না কেন? এটা আসলে নতুন সরকারের ইশারায় আমাদের বিরোধী স্বরকে গায়ের জোরে দমিয়ে দেওয়ার নোংরা চেষ্টা।” সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটের পর মমতার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই পুলিশের সঙ্গে সংঘাত আর দলের ভেতরের বিশৃঙ্খলা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।

বিষয় : Mamata Banerjee Dharmatala kolkatapolitics REDROADACTIVITY ESPLANADECHAOS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মাঝপথেই ভাষণ থামিয়ে দিলেন মমতা! ধর্মতলায় চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে ধুন্ধুমার তৃণমূল কর্মীদের?

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমবার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই কামব্যাক কর্মসূচি ঘিরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ধর্মতলা চত্বর। সভাস্থলে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার জেরে বাধ্য হয়ে মাঝপথেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দিতে হলো তৃণমূল সুপ্রিমোকে। এদিন দুপুরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে রেড রোডে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মালা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনের মতো হেভিওয়েট নেতারা। সেখান থেকে মমতা পৌঁছন ধর্মতলার ওয়াই (Y) চ্যানেলে দলের ধরনামঞ্চে। সেখানে দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধরনার অনুমতি ছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সভাস্থলে উপস্থিত থাকা দলীয় কর্মীদের একাংশের আচরণে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোড়াফুল শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। এই তুমুল চিৎকার-চেঁচামেচির জেরে তৃণমূলনেত্রীর ভাষণ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মাইক হাতে নিজের দলীয় কর্মীদেরই সংযত ও শান্ত থাকার কড়া বার্তা দেন মমতা।ধর্মতলার এই উত্তপ্ত মঞ্চ থেকেই নতুন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে তিনি তোপ দাগেন, “বিজেপি আমাদের দলটাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে। বেআইনি ভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং দলীয় প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে দলবদল করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ওদের সেই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।” প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে প্রথমে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে এই মেগা ধরনা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু কড়া নিরাপত্তার অজুহাতে সোমবার রাতেই পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রানি রাসমণি রোডে কোনোভাবেই বসা যাবে না, বিকল্প হিসেবে মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য ওয়াই চ্যানেলে বসার অনুমতি দেওয়া হবে। পুলিশের এই ধরপাকড় ও আইনি জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ইমেল পাঠিয়ে পুলিশ আমাদের বলছে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার জন্য নতুন করে অনুমতি নিতে হবে! এটা কি আদৌ সম্ভব? তাহলে এত আগে বলল না কেন? এটা আসলে নতুন সরকারের ইশারায় আমাদের বিরোধী স্বরকে গায়ের জোরে দমিয়ে দেওয়ার নোংরা চেষ্টা।” সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটের পর মমতার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই পুলিশের সঙ্গে সংঘাত আর দলের ভেতরের বিশৃঙ্খলা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার