Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘আইন মেনে ফাঁসিতে চড়ান, কিন্তু অসম্মান নয়!’ কোমরে দড়ি পরিয়ে অভিযুক্তদের রাস্তায় ঘোরানোয় রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

‘আইন মেনে ফাঁসিতে চড়ান, কিন্তু অসম্মান নয়!’ কোমরে দড়ি পরিয়ে অভিযুক্তদের রাস্তায় ঘোরানোয় রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অপরাধ দমনে পুলিশের অতি-সক্রিয়তা দেখা গেলেও, ধৃতদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। পুলিশ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ধৃতদের এভাবে জনসমক্ষে অপমান করছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। শুক্রবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে পুলিশের এই বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যেকোনো কড়া পদক্ষেপ করা যেতে পারে, এমনকি দোষ প্রমাণিত হলে তাকে ফাঁসিতেও চড়ানো যায়; কিন্তু গ্রেফতারির নামে আইন হাতে তুলে নিয়ে পুলিশ কোনোভাবেই কারও ইচ্ছাকৃত সম্মানহানি করতে পারে না।


বিগত দুই সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দেখা গিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর লক-আপ বা থানা থেকে বের করে কার্যত কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে, আর আমজনতা মোবাইলে সেই অসম্মানজনক দৃশ্যের ভিডিও তুলছে। পুলিশের এমন আইনবহির্ভূত আচরণের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলে, শুক্রবার তারই শুনানিতে সংবিধান ও মানবাধিকারের কথা মনে করিয়ে দেয় আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পর্যবেক্ষণ করেন যে, কোনো আসামির ওপর সমাজ বা প্রশাসনের তীব্র রাগ বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু আইনের রক্ষক হয়ে পুলিশ কাউকে এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান করতে পারে না, কারণ দেশের সংবিধান অন্তত এই সংস্কৃতির কথা বলে না। রাজ্যের সাম্প্রতিক তিন-চারটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের এই কড়া বার্তা এবং চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলবের নির্দেশ, অতি-উৎসাহী পুলিশ প্রশাসনের রাশ টানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিষয় : BengalPolitics lawandorder westbengalpolice CalcuttaHighCourt

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


‘আইন মেনে ফাঁসিতে চড়ান, কিন্তু অসম্মান নয়!’ কোমরে দড়ি পরিয়ে অভিযুক্তদের রাস্তায় ঘোরানোয় রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অপরাধ দমনে পুলিশের অতি-সক্রিয়তা দেখা গেলেও, ধৃতদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর মধ্যযুগীয় বর্বরতা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। পুলিশ কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ধৃতদের এভাবে জনসমক্ষে অপমান করছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। শুক্রবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে পুলিশের এই বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যেকোনো কড়া পদক্ষেপ করা যেতে পারে, এমনকি দোষ প্রমাণিত হলে তাকে ফাঁসিতেও চড়ানো যায়; কিন্তু গ্রেফতারির নামে আইন হাতে তুলে নিয়ে পুলিশ কোনোভাবেই কারও ইচ্ছাকৃত সম্মানহানি করতে পারে না।বিগত দুই সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দেখা গিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর লক-আপ বা থানা থেকে বের করে কার্যত কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতে, আর আমজনতা মোবাইলে সেই অসম্মানজনক দৃশ্যের ভিডিও তুলছে। পুলিশের এমন আইনবহির্ভূত আচরণের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলে, শুক্রবার তারই শুনানিতে সংবিধান ও মানবাধিকারের কথা মনে করিয়ে দেয় আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পর্যবেক্ষণ করেন যে, কোনো আসামির ওপর সমাজ বা প্রশাসনের তীব্র রাগ বা ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু আইনের রক্ষক হয়ে পুলিশ কাউকে এভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান করতে পারে না, কারণ দেশের সংবিধান অন্তত এই সংস্কৃতির কথা বলে না। রাজ্যের সাম্প্রতিক তিন-চারটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের এই কড়া বার্তা এবং চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলবের নির্দেশ, অতি-উৎসাহী পুলিশ প্রশাসনের রাশ টানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার