Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এবার দিল্লিতেও মহা-বিদ্রোহ! অভিষেককে হঠাতে একজোট ১২ সাংসদ, মমতার সফরের দিনেই কি তৃণমূলের ‘সংসদীয় দল’ দু’টুকরো?

এবার দিল্লিতেও মহা-বিদ্রোহ! অভিষেককে হঠাতে একজোট ১২ সাংসদ, মমতার সফরের দিনেই কি তৃণমূলের ‘সংসদীয় দল’ দু’টুকরো?
FILE IMAGE

নয়া দিল্লি: বাংলায় বিধানসভার অন্দরে ৬০ জন বিধায়কের ‘হাঁড়ি আলাদা’ করার পর এবার দিল্লির বুকেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর ঘাসফুল শিবিরের রক্তক্ষরণ যেন কিছুতেই থামছে না। এবার খোদ সংসদের অন্দরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ব্যাপক বিদ্রোহের সলতে পাকানো শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, সোমবার তৃণমূল নেত্রীর দিল্লি সফরের দিনেই লোকসভার সংসদীয় দলে এক ঐতিহাসিক ভাঙন ধরতে চলেছে। সূত্রের খবর, দলের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই দিল্লিতে একজোট হচ্ছেন বিদ্রোহী ও ‘বেসুরো’ সাংসদরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে ইতিমধ্যেই বহু সাংসদ দিল্লির উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছেন এবং সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠকের আগেই তৃণমূলের এই অন্তর্কলহ জাতীয় রাজনীতিতে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।


তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন দড়িটানাটানির মূলে রয়েছে দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করা। বিদ্রোহী শিবিরের স্পষ্ট কথা, লোকসভায় অভিষেককে দলনেতা হিসেবে তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অভিষেককে অপসারণের এক মাস্টারপ্ল্যান বা ব্লু-প্রিন্টও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। এই বিদ্রোহে সবথেকে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সেলিব্রেটি সাংসদরা। দেব (দীপক অধিকারী), শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং ইউসুফ পাঠানের মতো তারকারা দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এমনকি মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া দলীয় সমস্ত কর্মসূচি বয়কট করে ওটিটি-র শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, এই দল ভাঙানোর খেলায় পর্দার আড়ালে সবথেকে বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন পার্থ ভৌমিক এবং জগদীশ বসুনিয়া। লোকসভার অন্দরে বাংলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভালো তৃণমূল’ ব্লকের কায়দাতেই একটি সম্পূর্ণ আলাদা সংসদীয় ব্লক তৈরি করতে চাইছেন এই ১২ জন সাংসদ।


তবে প্রশ্ন উঠছে, লোকসভার অন্দরে দলত্যাগ বিরোধী আইন বাঁচিয়ে কীভাবে এই নতুন ব্লক তৈরি সম্ভব? আইন অনুযায়ী, সাংসদ পদ টিকিয়ে রেখে দল ভাঙতে গেলে মোট তৃণমূল সাংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এই জটিল অংকের কারণেই আপাতত সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বিদ্রোহীরা। এদিকে বিজেপির তরফ থেকেও বার্তা স্পষ্ট, তারা এই মুহূর্তে তৃণমূলের কোনো সাংসদকে নিজেদের দলে শামিল করবে না, বরং তারা চান সংসদের অন্দরে তৃণমূলের এই আলাদা ব্লকটিই বজায় থাকুক। এই চরম ডামাডোলের মাঝে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সাজদা আহমেদ, অরূপ চক্রবর্তী এবং বাপি হালদারের মতো একঝাঁক হেভিওয়েট সাংসদ তীব্র দোটানায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির ডেরা থেকেই প্রতিটি ‘বেসুরো’ সাংসদকে ধরে ধরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। যদিও শেষপর্যন্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনদের মতো অনুগতদের ভরসায় মমতা-অভিষেক এই দিল্লি-বিদ্রোহ দমন করতে পারেন কি না, তার ফয়সালা সোমবারই হয়ে যাবে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : Mamata Banerjee Abhisheik Banerjee kakolighoshdastidar TMCINCRISIS kolkatatodelhi loksobhaelection

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


এবার দিল্লিতেও মহা-বিদ্রোহ! অভিষেককে হঠাতে একজোট ১২ সাংসদ, মমতার সফরের দিনেই কি তৃণমূলের ‘সংসদীয় দল’ দু’টুকরো?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image
নয়া দিল্লি: বাংলায় বিধানসভার অন্দরে ৬০ জন বিধায়কের ‘হাঁড়ি আলাদা’ করার পর এবার দিল্লির বুকেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর ঘাসফুল শিবিরের রক্তক্ষরণ যেন কিছুতেই থামছে না। এবার খোদ সংসদের অন্দরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ব্যাপক বিদ্রোহের সলতে পাকানো শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, সোমবার তৃণমূল নেত্রীর দিল্লি সফরের দিনেই লোকসভার সংসদীয় দলে এক ঐতিহাসিক ভাঙন ধরতে চলেছে। সূত্রের খবর, দলের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই দিল্লিতে একজোট হচ্ছেন বিদ্রোহী ও ‘বেসুরো’ সাংসদরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে ইতিমধ্যেই বহু সাংসদ দিল্লির উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছেন এবং সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠকের আগেই তৃণমূলের এই অন্তর্কলহ জাতীয় রাজনীতিতে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন দড়িটানাটানির মূলে রয়েছে দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে অস্বীকার করা। বিদ্রোহী শিবিরের স্পষ্ট কথা, লোকসভায় অভিষেককে দলনেতা হিসেবে তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অভিষেককে অপসারণের এক মাস্টারপ্ল্যান বা ব্লু-প্রিন্টও ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। এই বিদ্রোহে সবথেকে অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সেলিব্রেটি সাংসদরা। দেব (দীপক অধিকারী), শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং ইউসুফ পাঠানের মতো তারকারা দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এমনকি মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া দলীয় সমস্ত কর্মসূচি বয়কট করে ওটিটি-র শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, এই দল ভাঙানোর খেলায় পর্দার আড়ালে সবথেকে বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন পার্থ ভৌমিক এবং জগদীশ বসুনিয়া। লোকসভার অন্দরে বাংলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভালো তৃণমূল’ ব্লকের কায়দাতেই একটি সম্পূর্ণ আলাদা সংসদীয় ব্লক তৈরি করতে চাইছেন এই ১২ জন সাংসদ।তবে প্রশ্ন উঠছে, লোকসভার অন্দরে দলত্যাগ বিরোধী আইন বাঁচিয়ে কীভাবে এই নতুন ব্লক তৈরি সম্ভব? আইন অনুযায়ী, সাংসদ পদ টিকিয়ে রেখে দল ভাঙতে গেলে মোট তৃণমূল সাংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এই জটিল অংকের কারণেই আপাতত সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বিদ্রোহীরা। এদিকে বিজেপির তরফ থেকেও বার্তা স্পষ্ট, তারা এই মুহূর্তে তৃণমূলের কোনো সাংসদকে নিজেদের দলে শামিল করবে না, বরং তারা চান সংসদের অন্দরে তৃণমূলের এই আলাদা ব্লকটিই বজায় থাকুক। এই চরম ডামাডোলের মাঝে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সাজদা আহমেদ, অরূপ চক্রবর্তী এবং বাপি হালদারের মতো একঝাঁক হেভিওয়েট সাংসদ তীব্র দোটানায় রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির ডেরা থেকেই প্রতিটি ‘বেসুরো’ সাংসদকে ধরে ধরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। যদিও শেষপর্যন্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনদের মতো অনুগতদের ভরসায় মমতা-অভিষেক এই দিল্লি-বিদ্রোহ দমন করতে পারেন কি না, তার ফয়সালা সোমবারই হয়ে যাবে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার