রাজারহাট: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে শাসক শিবিরের একাধিক নেতার কার্যালয় ও বাড়িতে একের পর এক তল্লাশি অভিযান ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে জড়িয়ে পড়লেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রখ্যাত কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি।
‘মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদে দায়িত্ব পালন করব
বৃহস্পতিবার রাজারহাটে অদিতির দলীয় কার্যালয়ে আচমকা হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বাগুইআটি থানার পুলিশের পাশাপাশি এই হাইভোল্টেজ তল্লাশি অভিযানের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি স্বয়ং। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ কেন এভাবে দলীয় কার্যালয়ের গোপন কুঠুরিতে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির সরাসরি অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের কার্যালয়ের একাধিক ঘরে তল্লাশি চালিয়ে থরে থরে সাজানো বহু সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জিনিসের তালিকায় রয়েছে সরকারি লোগোযুক্ত প্রচুর ত্রিপল, শাড়ি, ধুতি-সহ সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘‘যে কাজগুলি আইন মেনে পুলিশের করার কথা ছিল, আজ সাধারণ মানুষের স্বার্থে সেগুলি আমাদের করতে হচ্ছে। মানুষের বিপদের দিনে বিলি না করে এই বিপুল পরিমাণ জিনিস এখানে আটকে রাখা হয়েছিল।’’ শুধু তা-ই নয়, তরুণজ্যোতিবাবুর দাবি, অদিতির কার্যালয়ে এর চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত ছিল, যা পুলিশ পৌঁছোনোর আগেই সুকৌশলে অন্য কোথাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী তথা বিধাননগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চুরির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। বিজেপি বিধায়কের আরও এক বিস্ফোরক দাবি, ওই কার্যালয়ের ভেতর থেকে ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি বেশ কিছু আপত্তিকর নেশার সামগ্রীও মিলেছে। বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন অদিতি মুন্সির এই অফিসে তল্লাশির রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তেজনা ছড়ায় অন্য আরেকটি জায়গায়। দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইন্দ্রনাথ বাগুইয়ের অফিসেও এরপর তল্লাশি চালায় পুলিশ। আর সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বেশ কিছু সরকারি বালতি, সন্দেহভাজন জমির দলিল এবং মারাত্মক সব অস্ত্রশস্ত্র! বাগুইআটি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী ও অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় রাজারহাটের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে, যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের কোনো শীর্ষ নেতার প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন