কলকাতা: ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ কিংবা ‘হাম্বা হাম্বা, রম্বা রম্বা’—প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই সমস্ত কবিতা ও বই নিয়ে অতীতে কম চর্চা এবং সমালোচনা হয়নি। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের সমস্ত স্কুল এবং সরকারি লাইব্রেরিতে মমতার লেখা বই রাখা বাধ্যতামূলক করার যে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছিল রাজনৈতিক মহলে। তবে বঙ্গে পালাবদল ঘটতেই এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই সমস্ত সৃষ্টিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে কোমর বেঁধে নামল নতুন বিজেপি সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এক ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন রাজ্যের নতুন জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের কোনো সরকারি লাইব্রেরিতে আর মমতার লেখা কোনো বই রাখা হবে না।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গতকালই প্রথম নিজের দপ্তরে যান গৌরী শঙ্কর ঘোষ। সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার হারিয়ে যাওয়া গৌরব ও সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার স্বার্থেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলি সরকারি লাইব্রেরি থেকে অবিলম্বে বাতিল করা অত্যন্ত প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো কালজয়ী মনীষীদের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা এই সমস্ত মহাপুরুষদের লেখা পড়েই বড় হয়েছি এবং বাংলাকে সমৃদ্ধ করেছি। আগামী প্রজন্ম যাতে এঁদের আদর্শেই বড় হতে পারে, তার জন্য লাইব্রেরিতে শুধুমাত্র মনীষীদের লেখাই সমাদর পাবে।"
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহিত্যচর্চাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে গৌরী শঙ্কর ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ওই সমস্ত বই পড়েই নাকি বাংলার সংস্কৃতির চরম ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রীর ক্ষোভ, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের লেখা বই পড়িয়ে বাংলার যে কী দশা করেছেন, তা আজ গোটা রাজ্য দেখছে। বাংলা আজ পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে পরিণত হয়েছে, এখানে কোনো কর্মসংস্থান নেই, মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই, এমনকি গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। এই সমস্ত অপসংস্কৃতি ওঁর বই পড়েই তৈরি হয়েছে। তাই ওঁর লেখা বইগুলোকে আমরা আর লাইব্রেরিতে রাখব না।" মন্ত্রীর কড়া বার্তা, রাজ্যের গ্রন্থাগারগুলিতে এবার থেকে কোনো 'অপ্রয়োজনীয়' বা লঘু সাহিত্য থাকবে না। তার পরিবর্তে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো যুগপুরুষদের বইয়ে সাজানো হবে লাইব্রেরির তাক, যাতে সেই জ্ঞান আহরণ করে আগামী প্রজন্ম বাংলাকে বিশ্বমঞ্চে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন