কলকাতা: ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা পার। টানা ১১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস ম্যারাথন জেরা শেষে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দপ্তর থেকে যখন বাইরে বেরোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তির বদলে স্পষ্ট ছিল আগ্রাসী মেজাজ। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির ম্যারাথন তল্লাশির মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই বিস্ফোরক দাবি করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাজনৈতিক চক্রান্ত ও প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গলা কেটে দিলেও তিনি বা তাঁর দল আত্মসমর্পণ করবে না, লড়াই ময়দানেই চলবে।
সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের কিছুটা আগেই, ঠিক বেলা ১০টা ৫৬ মিনিটে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার আর্থিক লেনদেনে গরমিলের যে অভিযোগ উঠেছিল, মূলত সেই সূত্রেই এদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির আধিকারিকরা। রক্ষাকবচহীন অবস্থায় বেলা গড়িয়ে সন্ধে এবং সন্ধে গড়িয়ে রাত নামলেও ম্যারাথন জেরা পর্ব চলতে থাকে। অবশেষে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে এসে অভিষেক দাবি করেন, তদন্তে তিনি সবরকম সহযোগিতা করেছেন এবং এর আগেও ২০২৩ সাল সহ মোট ১০-১২ বার কেন্দ্রীয় সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়েই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে সুর চড়ান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীরা যাতে স্বীকৃতি না পায়, তার জন্য সাংসদ-বিধায়ক ভাঙানোর খেলা চলছে বলে তোপ দাগেন তিনি। তবে এই সমস্ত চাপ তৈরি করে তৃণমূলকে দমানো যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন এই যুবনেতা। উল্লেখ্য, এর আগে বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে ভবানী ভবনে দু’দফায় প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা সিআইডি-র জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মঙ্গলবার ফের ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে অভিষেককে, যা ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন