তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংঘাত এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল সোমবার রাতেই।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নিজেদের ঘোষিত জাতীয় কর্মসমিতিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু করার আগেই পালটা পদক্ষেপ করে কালীঘাট শিবির। তড়িঘড়ি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি এবং দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরের হালনাগাদ তথ্য কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পুরনো নেতৃত্বকেই রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মতভেদ প্রকট হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় একাংশ। পরবর্তীতে বিধানসভার ভিতরে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির রাজনৈতিকভাবে আলাদা অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সোমবার নিউটাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রতপন্থীরা নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করে। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও জায়গা রাখা হয়নি। বরং দলের শীর্ষ পদগুলিতে ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত সক্রিয় হয় কালীঘাট শিবির।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধিত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। পূর্ববর্তী কমিটিতে থাকা কয়েকজন নেতার নাম বাদ দিয়ে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখন মূল নজর থাকবে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের দিকে। দুই পক্ষই যদি নিজেদের বৈধ নেতৃত্ব দাবি করে, তাহলে কমিশনকে সাংগঠনিক ও আইনগত নথি খতিয়ে দেখতে হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন