নবদ্বীপ: সামনেই রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। রাজনীতির পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই মায়াপুরে ইস্কন মন্দিরে পৌঁছে এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে তুলে ধরলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ অনুগামী হিসাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে শাহের এই সফর ও বক্তব্য বাংলার কৃষ্টি ও হিন্দুত্বের মেলবন্ধন ঘটানোর, তথা এক গভীর রণকৌশলের ইঙ্গিত।
এদিন মায়াপুরে পা রেখেই প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন অমিত শাহ। এরপর অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি শুরুতেই নিজের প্রশাসনিক পরিচয় সরিয়ে রেখে আবেগঘন হয়ে পড়েন। শাহ বলেন, “আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নয়, বরং চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হিসাবে এসেছি।” তিনি আরও জানান, বহুবার মায়াপুরে আসার ইচ্ছা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। এদিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীও মায়াপুরের সমস্ত ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ অভিবাদন জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অমিত শাহের এই সফরকে নিছক ধর্মীয় সফর হিসাবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এর পিছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসছে। যেমন - বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে তারা বাংলায় বহিরাগত নয়। এদিন নিজেকে মহাপ্রভুর ভক্ত হিসাবে পরিচয় দিয়ে শাহ আসলে বাংলার বৈষ্ণব ভাবাবেগ ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিক টান প্রমাণ করতে চেয়েছেন। এটি বাঙালি ভোটারদের একাংশের মন জয়ের একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ। তাছাড়া, কট্টরপন্থী রাজনীতির বদলে ‘ভক্তি’ ও ‘চৈতন্য দর্শনের’ কথা বলে শাহ হিন্দুত্বের একটি নমনীয় এবং সর্বজনগ্রাহ্য রূপও তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। মায়াপুর ইস্কনের বিশ্বব্যাপী প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করাই এর লক্ষ্য।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন