Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইদে বাড়ি ফেরা হল না কান্দির পরিযায়ীর, মাঠে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইদে বাড়ি ফেরা হল না কান্দির পরিযায়ীর, মাঠে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ!

কান্দি: উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে বিষাদের ছায়া নেমে এল মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত যশোহরী চৈতন্যপুর গ্রামে। ইদের ছুটিতে চেন্নাই থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ২২ বছরের যুবক মহিরুল মল্লিক। মঙ্গলবার বিকেলে সালারের রায়গ্রামের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হল তাঁর বীভৎস অগ্নিদগ্ধ দেহ! পরিবারের দাবি, মহিরুলকে নৃশংসভাবে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিরুল মল্লিক চেন্নাইয়ে দিনমজুরের কাজ করতেন। সামনেই ইদ। তাই, পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটাতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল তাঁর। হাওড়া হয়ে ট্রেন ধরে সালার স্টেশনে নামার কথা ছিল মহিরুলের। কিন্তু, স্টেশনে নামার পর থেকেই তাঁর আর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না।


মঙ্গলবার বিকেলে সালারের রায়গ্রামের বাসিন্দারা একটি মাঠে এক যুবককে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। দগ্ধ দেহটি মহিরুলের বলে নিশ্চিত করেন তাঁর আত্মীয় আলাই শেখ।


পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। তাঁদের দাবি, মহিরুলকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে কোনও নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। এবং প্রমাণ লোপাট করতেই দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সালারে ট্রেন থেকে নামার পর কীভাবে তিনি রায়গ্রামের নির্জন মাঠে পৌঁছলেন এবং কেনই বা তাঁর দেহ আগুনে ঝলসানো অবস্থায় পাওয়া গেল, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।


সালার ও কান্দি মহকুমা পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আগে মহিরুলের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে মৃতের কল ডিটেইলস পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি কোনও পুরনো শত্রুতার জের না কি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আক্রমণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 


এদিকে, ২২ বছরের তরতাজা যুবকের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর গোটা পরিবার। গ্রামে এখন শোকের স্তব্ধতা। উৎসবের আগের দিনগুলিতে মহিরুলের হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায় থাকা পরিবার এখন তাঁকে সমাধিস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসী ও পরিজনেরা।

বিষয় : murshidabad Immigrant Labourer

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


ইদে বাড়ি ফেরা হল না কান্দির পরিযায়ীর, মাঠে উদ্ধার অগ্নিদগ্ধ দেহ!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কান্দি: উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে বিষাদের ছায়া নেমে এল মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত যশোহরী চৈতন্যপুর গ্রামে। ইদের ছুটিতে চেন্নাই থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন ২২ বছরের যুবক মহিরুল মল্লিক। মঙ্গলবার বিকেলে সালারের রায়গ্রামের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হল তাঁর বীভৎস অগ্নিদগ্ধ দেহ! পরিবারের দাবি, মহিরুলকে নৃশংসভাবে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিরুল মল্লিক চেন্নাইয়ে দিনমজুরের কাজ করতেন। সামনেই ইদ। তাই, পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটাতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল তাঁর। হাওড়া হয়ে ট্রেন ধরে সালার স্টেশনে নামার কথা ছিল মহিরুলের। কিন্তু, স্টেশনে নামার পর থেকেই তাঁর আর কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না।মঙ্গলবার বিকেলে সালারের রায়গ্রামের বাসিন্দারা একটি মাঠে এক যুবককে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা। দগ্ধ দেহটি মহিরুলের বলে নিশ্চিত করেন তাঁর আত্মীয় আলাই শেখ।পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। তাঁদের দাবি, মহিরুলকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে কোনও নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। এবং প্রমাণ লোপাট করতেই দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সালারে ট্রেন থেকে নামার পর কীভাবে তিনি রায়গ্রামের নির্জন মাঠে পৌঁছলেন এবং কেনই বা তাঁর দেহ আগুনে ঝলসানো অবস্থায় পাওয়া গেল, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।সালার ও কান্দি মহকুমা পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার আগে মহিরুলের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে মৃতের কল ডিটেইলস পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি কোনও পুরনো শত্রুতার জের না কি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আক্রমণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, ২২ বছরের তরতাজা যুবকের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর গোটা পরিবার। গ্রামে এখন শোকের স্তব্ধতা। উৎসবের আগের দিনগুলিতে মহিরুলের হাসিমুখ দেখার অপেক্ষায় থাকা পরিবার এখন তাঁকে সমাধিস্থ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসী ও পরিজনেরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত