নয়াদিল্লি: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হল। বুধবার মূল মামলাকারীদের তরফে একটি স্পেশাল লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
মামলাকারীদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কেবল ‘মানবিকতার’ খাতিরে এই বিপুল সংখ্যক চাকরি বজায় রেখেছে। তাঁদের যুক্তি, নিয়োগের ক্ষেত্রে যেখানে স্পষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির হদিশ মিলেছে, সেখানে এভাবে গণহারে চাকরি বহাল রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রাথমিক শিক্ষক পদে ৩২ হাজার প্রার্থীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই সময় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণহীন প্রার্থী এবং ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় বড়সড় গরমিলের তথ্য সামনে এসেছিল। তবে, গত ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গণ-অনিয়ম বা 'Mass scale irregularity' হয়নি। গুটিকয়েক প্রার্থীর ভুলের জন্য হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা যুক্তিযুক্ত নয়। দুর্নীতির তদন্ত এখনও চলছে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনই সম্ভব নয়।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় আসার পরই মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট (Caveat) দাখিল করে রেখেছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। যাতে তাঁদের পক্ষ না শুনে আদালত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেয়।
সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য শেষ পর্যন্ত কী হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষামহল।
বিষয় : Supreme Court of India Primay Teacher

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন