আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আগুন এবার গ্রাস করতে চলেছে ইউরোপীয় ভূখণ্ডকেও? বুধবার ইরান থেকে ছোড়া একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ‘ন্যাটো’র (NATO) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের তৎপরতায় একটি বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইরাক ও সিরিয়ার আকাশপথ অতিক্রম করে আসা এই মারণাস্ত্রটিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিপুণভাবে প্রতিহত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন তুরস্কের হাতায় প্রদেশের দোর্তিওল জেলায় আছড়ে পড়ে। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে, ন্যাটোর সদস্য দেশ তুরস্কে এই ধরনের অনুপ্রবেশ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তুরস্ক ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র। ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ বা সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, কোনও একটি সদস্য দেশের উপর আক্রমণ মানে সমগ্র জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি এই নীতি সক্রিয় করা হয়, তবে ইরান বনাম পশ্চিমী দুনিয়ার সরাসরি সংঘাত তথা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠবে।
এর আগে ১ থেকে ৩ মার্চের মধ্যে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতেও ইরানি ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে, তুরস্কের এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মনে করা হচ্ছে, তুরস্কের ‘ইনজিরলিক’ এবং ‘কুরেজিক’ রাডার সিস্টেমগুলিই ছিল ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিস, ফ্রান্স এবং জার্মানি ইতিমধ্যেই তাদের যুদ্ধজাহাজ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। তুরস্ক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও শত্রুতামূলক আচরণের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
বিষয় : Turkey

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন