পটনা: বিহারের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের যবনিকা পতন হতে চলেছে কি? বৃহস্পতিবার পটনায় রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন নীতীশ কুমার। তবে, এই মনোনয়ন পর্বের একটি বিশেষ ছবি এখন দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রে, যেখানে নীতীশ কুমারের ডানদিকে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বাঁদিকে বিহার বিজেপির দাপুটে নেতা সম্রাট চৌধরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফ্রেমটিই বলে দিচ্ছে বিহারে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এবার কোন দিকে ঘুরতে চলেছে।
গত নভেম্বরে দশমবারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ। কিন্তু, মাত্র চারমাসের মাথায় তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিহারের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালেই সমাজমাধ্যমে নীতীশ ঘোষণা করেন, সংসদীয় জীবনের শুরু থেকেই তাঁর ইচ্ছে ছিল বিধানসভা ও সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য হওয়া। সেই অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতেই এবার রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে অমিত শাহের সঙ্গে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতে দেখা যায় তাঁকে। যা এনডিএ জোটের মজবুত সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নীতীশের এই প্রস্থান আসলে বিজেপির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক জয়। হিন্দি বলয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দীর্ঘকাল নীতীশের ছায়ায় থাকার পর, এবার সরাসরি শাসনের সুযোগ পাচ্ছে বিজেপি। জল্পনা তুঙ্গে যে - নীতীশের উত্তরসূরি হিসেবে বিহারের কুর্সিতে বসতে চলেছেন সম্রাট চৌধরি। যদি তাই হয়, তবে বিহারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিজেপি নেতা মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হবেন। এদিন নীতীশের পাশেই সম্রাটের উপস্থিতি সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।
নীতীশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি সরে দাঁড়ালেও বিহারে যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তার প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। বিহারের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় তিনি আগের মতোই দায়বদ্ধ থাকবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিন নীতীশের পাশাপাশি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন।
নীতীশ-যুগের অবসানের মধ্য দিয়ে বিহারে কি এবার এক নতুন ‘গেরুয়া বসন্ত’ শুরু হতে চলেছে? নজর থাকবে রাজভবনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন