নয়াদিল্লি: সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতেই তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সংঘাত চরমে পৌঁছতে চলেছে। দীর্ঘ টালবাহানার পর এবার স্পিকারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের পাশে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস।
আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের শক্তি সুনিশ্চিত করতে আগামী ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দলীয় সাংসদদের উপস্থিত থাকার জন্য কড়া হুইপ জারি করেছে বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয় পক্ষই।
বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে যখন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ স্পিকারের বিরুদ্ধে নোটিস জমা দিয়েছিলেন, তখন তৃণমূল কংগ্রেস তাতে সই করেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় জানিয়েছিলেন, তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্তে তাঁরা যেতে চান না। তবে সূত্রের খবর, দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবার তৃণমূল সাংসদরাও স্পিকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চলেছেন। সংসদের কার্যপ্রণালীতে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৯৪(সি) ধারা অনুযায়ী স্পিকার ওম বিড়লার অপসারণের নোটিস জমা দেয় বিরোধীরা। তাদের মূল অভিযোগগুলি হল, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বারবার কথা বলতে বাধা দেওয়া। বিজেপি সাংসদদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ। ৮ জন বিরোধী সাংসদকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাসপেন্ড করা। এবং সংসদে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে একতরফা কার্যপ্রণালী চালানো।
নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারকে সরাতে হলে নিম্নকক্ষের তৎকালীন সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীদের দাবি, ইতিমধ্যে ১১৮ জন সাংসদ এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। এবার তৃণমূলের সমর্থন মেলায় বিরোধীদের পাল্লা আরও ভারী হল। সোমবার অধিবেশন শুরু হলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে এই নিয়ে বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাজেট অধিবেশনের এই দ্বিতীয় পর্ব কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিতে চলেছে, যেখানে স্পিকারের চেয়ারই এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
বিষয় : Loksabha Speaker Om Birla

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন