নন্দীগ্রাম: ভোটের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। আর তখনই নন্দীগ্রামের ভোট-অঙ্কে প্রকাশ্যে এল অডিয়ো বোমা! আইএসএফ প্রার্থী সবেমিরাজ খানকে সরাসরি তৃণমূলে যোগদানের টোপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ফোনের ওপার থেকে আইপ্যাকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি! সেই ভাইরাল অডিয়ো ঘিরেই এখন সরগরম পূর্ব মেদিনীপুরের এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। (উল্লেখ্য, এই ভাইরাল অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)।
ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে শোনা যাচ্ছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ মনসুর ফোন করেছেন আইএসএফ প্রার্থী সবেমিরাজ খানকে। সেখানে তাঁকে বারবার দল ছেড়ে তৃণমূলে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাঁর যেকোনও শর্ত পূরণ করার আশ্বাসও দেন ওই তৃণমূল নেতা। এমনকী, আইপ্যাকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপনে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করারও টোপ দেওয়া হয়।
তৃণমূল নেতার এই প্রলোভনের মুখে অবশ্য দমে যাননি আইএসএফ প্রার্থী। অডিয়োয় তাঁকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। দল যখন আমাকে প্রার্থী করেছে, তখন আমি লড়াই করবই। এতে আমার ক্ষতি হলেও পিছু হটব না। কারণ, আমি নীতি নিয়ে রাজনীতি করি।” প্রার্থীর এই অনড় মনোভাবের প্রশংসা শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের একাংশে।
নন্দীগ্রামে ভোটের মুখে এমন অডিয়ো বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও ঠিক এভাবেই বিজেপি নেতা প্রলয় পালকে 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন করার একটি অডিয়ো' ভাইরাল হয়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনেও যেন সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। এবার শুধু লক্ষ্য বদলে বিজেপি থেকে আইএসএফ প্রার্থী করা হয়েছে।
এই অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর শাসকদলের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, নন্দীগ্রামে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই এখন অনৈতিকভাবে বিরোধী প্রার্থীদের কেনার চেষ্টা করছে তৃণমূল। যদিও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বা আইএসএফ প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন