কলকাতা: খাস কলকাতায় সাতসকালে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রতিদিনের মতো মনের আনন্দে বাড়ির সামনে খেলছিল বছর ছয়েকের একরত্তি শিশু, কিন্তু কে জানত সেই খেলাই তার জীবনের শেষ খেলা হবে! হেস্টিংস এলাকায় রাস্তার একটি সরকারি বাতিস্তম্ভের ভারী লাইট আচমকা ভেঙে পড়ল খোদ এক শিশু কন্যার মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত শিশুর নাম গুড়িয়া খাতুন। এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের পরিজনেরা। পুরসভার চূড়ান্ত গাফিলতি আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের দিকেই আঙুল তুলছেন সকলে।
তখন সকাল ঠিক ৭টা। ঘুম থেকে উঠেই বাড়ির পাশে প্রতিদিনের চেনা জায়গায় খেলায় মগ্ন ছিল একরত্তি গুড়িয়া। একা একাই খেলছিল সে। ঠিক সেই সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাথার ওপর থাকা বাতিস্তম্ভের একটি বিশাল ভারী লাইট হুড়মুড়িয়ে খুলে সোজা এসে পড়ে তার মাথায়। প্রচণ্ড আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশুটি। চারপাশ ভেসে যায় রক্তে। পরিবারের লোকেদের দাবি, ঘটনাস্থলেই ছটফট করতে করতে প্রাণ হারিয়েছিল গুড়িয়া। চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা-বাবা। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, সব শেষ।
এই চরম দুর্ঘটনার পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয়রা। পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, যে লাইটটি ভেঙে পড়েছে, সেটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তিনটি ফুটো রয়েছে। অর্থাৎ তিনটি শক্ত নাট দিয়ে সেটি আটকে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে লাগানো ছিল মাত্র একটি নাট! বাকি দুটো নাটের কোনো হদিশই নেই। লাইটটি ভেঙে পড়ার পর সেই একটিমাত্র নাটই রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতার কারণেই কি আজ একটা ফুটফুটে বাচ্চার প্রাণ চলে গেল? এতদিন ধরে এই বাতিস্তম্ভগুলির আদৌ কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হতো কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের দিকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, তার জন্য পুরো ঘটনাস্থলটি গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। একটি মাত্র নাট দিয়ে কীভাবে অত বড় লাইট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কার গাফিলতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার পর থেকে গোটা হেস্টিংস এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক।
বিষয় : CHILDDEATH KOLKATAACCIDENT hastingstragedy

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন