আসানসোল: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বুক চিরে তখন তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে রাতের যান চলাচল। কিন্তু কে জানত, সেই অন্ধকার পথেই ওত পেতে বসে আছে চরম বিভীষিকা! শনিবার রাতে আসানসোলের দিল্লি পাবলিক স্কুলের কাছে ঘটল এক রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনা। নৈশ ডিউটিতে বেরোনো এক দুর্ধর্ষ বাইক আরোহীকে লক্ষ্য করে চলল একের পর এক গুলি। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে দুষ্কৃতীদের চালানো গুলিতে রক্তভেজা অবস্থায় জাতীয় সড়কেই লুটিয়ে পড়লেন তিনি, অথচ চরম ভয়কে জয় করে সেই রক্তাক্ত অবস্থাতেই যা ঘটালেন, তাতে শিউরে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম হরিদাস লায়েক (৪৩)। সালানপুরের আল্লাডি পঞ্চায়েতের ধাগুড়ির বাসিন্দা হরিদাসবাবু পেশায় আসানসোলের একটি বেসরকারি স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী। শনিবার রাতে স্বাভাবিক নিয়মেই নিজের বাইকটি নিয়ে ডিউটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লি পাবলিক স্কুলের কাছে পৌঁছতেই হঠাৎই একটি বাইকে চেপে চেপে আসে তিন মুখোশধারী দুষ্কৃতী। আচমকাই তাঁর পথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। মুহূর্তের মধ্যে হরিদাসবাবুর কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা।
কিন্তু দুষ্কৃতীদের কাছে নতিস্বীকার করতে রাজি ছিলেন না হরিদাসবাবু। তীব্র প্রাণপণ বাধা গড়ে তোলেন তিনি। আর ঠিক তখনই, ব্যাগ ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে পকেট থেকে বন্দুক বের করে তাকে লক্ষ্য করে পরপর দু’রাউন্ড গুলি চালায় ওই দুষ্কৃতী দল। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারিদিক। একটি গুলি সোজা গিয়ে লাগে হরিদাসবাবুর পায়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় বাইক নিয়ে পিচরাস্তায় আছড়ে পড়েন তিনি। তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়, অত হিংস্র আক্রমণের পরেও হার মানেননি তিনি। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই সাহসের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিজের মোবাইল ফোন বের করে দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করেন এবং তাদের চিনে রাখতে ভিডিও তোলার চেষ্টা চালান। বিপদ বুঝে চটজলদি চম্পট দেয় মুখোশধারীরা।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সালানপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত যুবককে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তীব্রতায় নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসনও। রাতেই এলাকা পরিদর্শনে ছুটে যান পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার, ডিসি ওয়েস্ট সানা আখতার, এবং ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজের ফাঁকা খোল উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা। তবে এই দুর্ধর্ষ ঘটনার পর রাতের জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশের টহলদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। গোটা এলাকায় আপাতত থমথমে পরিবেশ, শুরু হয়েছে অপরাধীদের সন্ধানে তল্লাশি।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন