পূর্ব বর্ধমান: উৎসবের আনন্দের মাঝেই চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয় এক লহমায় অন্ধকার নামিয়ে এনেছে একাধিক পরিবারে। পুজোর চেনা ঝলমলে আনন্দ পরিণত হয়েছে চিরকালের শোকে। এমন এক দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষত মুছতে না পারলেও স্বজনহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের আত্মীয়ের মতো দায়িত্ব পালনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে গিয়ে মৃত সন্দীপ বেজ ও টগর বেজের পরিবার পরিজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, হারানো মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়, তবে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে পরবর্তী সমস্ত দায়-দায়িত্ব পালন করাটাই তাঁর পরম কর্তব্য।
চোরবাগানের এই ভয়াবহ বিপর্যয় কীভাবে ঘটল, কার গাফিলতিতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটল—তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। রাজ্য সরকারের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে যেন অতি দ্রুত এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিচারবিভাগীয় কমিটির মধ্যে কলকাতা পুলিশ কিংবা পুরসভাকে রাখা হয়নি, যাতে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আসতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
উৎসবের মরশুমে এমন অপূরণীয় ক্ষতি যে পুরো রাজ্যবাসীর মনকে আচ্ছন্ন করেছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বারবার ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা থেকেই শিক্ষাকে সম্বল করে ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান চললেও, যাদের ঘরের আলো নিভে গিয়েছে, তাদের চোখের জল মুছে পাশে দাঁড়ানোকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের সর্বস্তরের মানুষ এই পরিবারগুলিকে নিজেদের আত্মীয় মনে করেই সবরকম সহযোগিতা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন