Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Delhi Protest: দিল্লিতে তুলকালাম! হাজার ছাড়াল আটক, প্রস্তুত স্টেডিয়াম, মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন দীপকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
Delhi Protest: দিল্লিতে তুলকালাম! হাজার ছাড়াল আটক, প্রস্তুত স্টেডিয়াম, মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন দীপকে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: শনিবারের সকালের প্রথম আলো ফুটতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'আইসা'-র যৌথ উদ্যোগে ডাক দেওয়া হয়েছে 'যন্তর মন্তর ২.০' কর্মসূচি। আর এই মেগা আন্দোলনকে অঙ্কুরেেই শেষ করতে ভোররাত থেকে শহরজুড়ে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত, শাহিনবাগ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন অলিগলি থেকে রাতের অন্ধকারেই তুলে নেওয়া হয়েছে হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে। আটক হওয়া এই তরুণ-তরুণীদের রাখার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় উত্তর দিল্লির বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম, ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামকে একপ্রকার অস্থায়ী জেলে পরিণত করেছে প্রশাসন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে বুরারির নিরঙ্কারী ময়দানকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুরো দিল্লি শহর এখন কার্যত এক অবরুদ্ধ দুর্গের রূপ নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অন্তত ১০টি করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ৪০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তলস্তয় রোড, অশোকা রোড এবং যন্তর মন্তরগামী প্রায় সব পথেই সাধারণ মানুষের স্বাধীন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। শুধু তাই নয়, রাজধানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত দিল্লিগামী সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যন্ত স্তব্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন হোটেল, পেয়িং গেস্ট এবং গেস্ট হাউসে পুলিশ সরাসরি তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন কমবয়সিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। গোটা নিউ দিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে কঠোর ১৬৩ ধারা।

এমন চরম ডামাডোলের মধ্যেই মুম্বই থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। বিমানে ওঠার আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের তরুণ প্রজন্মকে দেখে নরেন্দ্র মোদী চরম ভীত। তাঁর ক্ষুব্ধ প্রশ্ন, "নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই কি মোদী-শাহ যুদ্ধ ঘোষণা করছেন? সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আমাদের মৌলিক অধিকার, অথচ পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।" নিজেকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, এতে যেন দেশের তরুণদের প্রতিবাদ থেমে না যায়। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র অফিসিয়াল হ্যান্ডেলগুলি ভেসে যাচ্ছে ‘জ্ঞানু গদ্দার’ এবং ‘ভোটচুরি বন্ধ করো’ স্লোগানে। সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে যন্তর মন্তরে আরও এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে, পুলিশের বহুমুখী নিরাপত্তার বেড়াজাল ও কঠোর ধরপাকড়ের মাঝে গোটা রাজধানীজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিষয় : BreakingNews DELHIPOLICE DELHIPROTEST HiddenStoriesNews GyaneshKumar cjp ModiGovernment DelhiNews JantarMantar2 AISA PreventiveDetention

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


Delhi Protest: দিল্লিতে তুলকালাম! হাজার ছাড়াল আটক, প্রস্তুত স্টেডিয়াম, মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন দীপকে

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: শনিবারের সকালের প্রথম আলো ফুটতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দেশের রাজধানী দিল্লি। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'আইসা'-র যৌথ উদ্যোগে ডাক দেওয়া হয়েছে 'যন্তর মন্তর ২.০' কর্মসূচি। আর এই মেগা আন্দোলনকে অঙ্কুরেেই শেষ করতে ভোররাত থেকে শহরজুড়ে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সীমান্ত, শাহিনবাগ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন অলিগলি থেকে রাতের অন্ধকারেই তুলে নেওয়া হয়েছে হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে। আটক হওয়া এই তরুণ-তরুণীদের রাখার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় উত্তর দিল্লির বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম, ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামকে একপ্রকার অস্থায়ী জেলে পরিণত করেছে প্রশাসন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে বুরারির নিরঙ্কারী ময়দানকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।পুরো দিল্লি শহর এখন কার্যত এক অবরুদ্ধ দুর্গের রূপ নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অন্তত ১০টি করে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং ৪০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তলস্তয় রোড, অশোকা রোড এবং যন্তর মন্তরগামী প্রায় সব পথেই সাধারণ মানুষের স্বাধীন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। শুধু তাই নয়, রাজধানীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত দিল্লিগামী সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পর্যন্ত স্তব্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন হোটেল, পেয়িং গেস্ট এবং গেস্ট হাউসে পুলিশ সরাসরি তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন কমবয়সিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। গোটা নিউ দিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে কঠোর ১৬৩ ধারা।এমন চরম ডামাডোলের মধ্যেই মুম্বই থেকে বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়ে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে। বিমানে ওঠার আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের তরুণ প্রজন্মকে দেখে নরেন্দ্র মোদী চরম ভীত। তাঁর ক্ষুব্ধ প্রশ্ন, "নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই কি মোদী-শাহ যুদ্ধ ঘোষণা করছেন? সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আমাদের মৌলিক অধিকার, অথচ পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।" নিজেকে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, এতে যেন দেশের তরুণদের প্রতিবাদ থেমে না যায়। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র অফিসিয়াল হ্যান্ডেলগুলি ভেসে যাচ্ছে ‘জ্ঞানু গদ্দার’ এবং ‘ভোটচুরি বন্ধ করো’ স্লোগানে। সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে যন্তর মন্তরে আরও এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে, পুলিশের বহুমুখী নিরাপত্তার বেড়াজাল ও কঠোর ধরপাকড়ের মাঝে গোটা রাজধানীজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত