Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Symbol Freeze : হাতছাড়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’! অখিল গিরিকে কালীঘাটে ডাক মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Symbol Freeze : হাতছাড়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’! অখিল গিরিকে কালীঘাটে ডাক মমতার
আসন্ন উপনির্বাচনে কি প্রতীকহীন তৃণমূল ? ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকের ভবিষ্যৎ ঘিরে তুঙ্গে উঠল আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে দুই যুযুধান শিবির ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর টানা শুনানির পর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, ভোটের আগে দলীয় প্রতীকের জটিল জট সহজে কাটছে না। 

কমিশন সূত্র দাবি, উপনির্বাচনের আগে কোনও চূড়ান্ত রায় না দিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করে দেওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর প্রতীক জটের এই টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ রাজনৈতিক জলঘোলা বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরিকে ফোন করে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী, যা ঘিরে নন্দীগ্রামে অখিলের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের দিল্লিতে পৃথকভাবে হাজির হয়েছিল দুই পক্ষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিশন থেকে বেরিয়েই সুর চড়িয়ে দাবি করে, “তৃণমূল কারও বাপের জমিদারি নয়, আসল প্রতীক ও ফান্ডের মালিক আমরাই।” এমনকি মমতার প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়ে ঋতব্রত শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে তাঁরা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করাবেন না। 

অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধি দলের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলেও তাঁদের বিকল্প তৈরি রয়েছে। জল্পনা উঠেছে, প্রতীক হাতছাড়া হলে মমতা শিবির ইতিমধ্যে একটি অন্য ফুলের বিকল্প নির্বাচনী চিহ্নও ভেবে রেখেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে কমিশনের সামনে চারটি প্রধান বিকল্প খোলা রয়েছে:

  • কালীঘাট শিবিরকে প্রতীক দেওয়া।

  • ঋতব্রত শিবিরকে আসল প্রতীক সমর্পণ করা।

  • বিদ্যমান ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখা, যাতে মমতা শিবির সুবিধা পাবে।

  • অথবা সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা— ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেওয়া। যদি তাই হয়, তবে উপনির্বাচনে উভয় শিবিরকেই নির্দল বা নতুন কোনও প্রতীকে লড়াই চালাতে হবে।

এই টানটান আইনি লড়াইয়ের আবহেই নন্দীগ্রামের ভোট-রণনীতি সাজাতে তৎপর নবান্ন। ৩ দিন আগে ফোনের পর শুক্রবার ফের অখিল গিরিকে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শনিবার কালীঘাটে বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠান। অখিল গিরি অবশ্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যদি আমাকে প্রার্থী করে তবে সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, নন্দীগ্রামে স্থানীয় কোনও মুখকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।” 

রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি প্রতীক ফ্রিজ করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নন্দীগ্রামের মাটিতে জোড়াফুল ছাড়া অখিল বা অন্য কোনও নির্দল প্রার্থীর লড়াই দলীয় সংগঠনের বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে। এখন উপনির্বাচনের আগে কমিশনের চূড়ান্ত নোটিশের দিকেই তাকিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দল।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Symbol Freeze : হাতছাড়া হতে পারে ‘জোড়াফুল’! অখিল গিরিকে কালীঘাটে ডাক মমতার

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকের ভবিষ্যৎ ঘিরে তুঙ্গে উঠল আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন। শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে দুই যুযুধান শিবির ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর টানা শুনানির পর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, ভোটের আগে দলীয় প্রতীকের জটিল জট সহজে কাটছে না। কমিশন সূত্র দাবি, উপনির্বাচনের আগে কোনও চূড়ান্ত রায় না দিয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করে দেওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর প্রতীক জটের এই টানাপোড়েনের মাঝেই হঠাৎ রাজনৈতিক জলঘোলা বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরিকে ফোন করে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী, যা ঘিরে নন্দীগ্রামে অখিলের প্রার্থী হওয়ার জল্পনা এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।শনিবার নির্বাচন কমিশনের দিল্লিতে পৃথকভাবে হাজির হয়েছিল দুই পক্ষ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিশন থেকে বেরিয়েই সুর চড়িয়ে দাবি করে, “তৃণমূল কারও বাপের জমিদারি নয়, আসল প্রতীক ও ফান্ডের মালিক আমরাই।” এমনকি মমতার প্রতি কিছুটা নমনীয় হয়ে ঋতব্রত শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে তাঁরা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করাবেন না। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধি দলের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলেও তাঁদের বিকল্প তৈরি রয়েছে। জল্পনা উঠেছে, প্রতীক হাতছাড়া হলে মমতা শিবির ইতিমধ্যে একটি অন্য ফুলের বিকল্প নির্বাচনী চিহ্নও ভেবে রেখেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে কমিশনের সামনে চারটি প্রধান বিকল্প খোলা রয়েছে:কালীঘাট শিবিরকে প্রতীক দেওয়া।ঋতব্রত শিবিরকে আসল প্রতীক সমর্পণ করা।বিদ্যমান ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় রাখা, যাতে মমতা শিবির সুবিধা পাবে।অথবা সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনা— ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেওয়া। যদি তাই হয়, তবে উপনির্বাচনে উভয় শিবিরকেই নির্দল বা নতুন কোনও প্রতীকে লড়াই চালাতে হবে।এই টানটান আইনি লড়াইয়ের আবহেই নন্দীগ্রামের ভোট-রণনীতি সাজাতে তৎপর নবান্ন। ৩ দিন আগে ফোনের পর শুক্রবার ফের অখিল গিরিকে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শনিবার কালীঘাটে বৈঠকের জন্য ডেকে পাঠান। অখিল গিরি অবশ্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যদি আমাকে প্রার্থী করে তবে সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে আমার ব্যক্তিগত মত, নন্দীগ্রামে স্থানীয় কোনও মুখকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।” রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন যদি প্রতীক ফ্রিজ করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নন্দীগ্রামের মাটিতে জোড়াফুল ছাড়া অখিল বা অন্য কোনও নির্দল প্রার্থীর লড়াই দলীয় সংগঠনের বড় পরীক্ষার মুখে ফেলবে। এখন উপনির্বাচনের আগে কমিশনের চূড়ান্ত নোটিশের দিকেই তাকিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দল।হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত