Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

BRICS Summit : ভারতে আসার আগেই বেজিংয়ের বার্তা, একযোগে তীব্র চাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
BRICS Summit : ভারতে আসার আগেই বেজিংয়ের বার্তা, একযোগে তীব্র চাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান
শনিবার বিকেলে মোদী-জিংপিং বৈঠক। ফাইল ছবি

বেজিং: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কূটনৈতিক টানাটানির অবসান ঘটিয়ে ব্রিক্‌স (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিন্তু চিনা প্রেসিডেন্ট দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল কূটনৈতিক বিশ্ব। ভারতে রওনা দেওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুদৃঢ় বার্তা দিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ কার্যত একযোগে চরম কূটনৈতিক চাপে ফেলে দিল দুই প্রতিবেশী দেশ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে।

২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারতে আসছেন জিনপিং। ২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ডোকলাম বিতর্ক এবং অরুণাচল নিয়ে চরম উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে সেই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল শুক্রবার রাতে। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং সমাজমাধ্যমে নিশ্চিত করেন, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। কাজান এবং তিয়ানজিনের পর এটি টানা তৃতীয় বছর তাঁদের সাক্ষাৎ।

চিনা রাষ্ট্রদূতের বার্তায় স্পষ্ট, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের কৌশলগত নির্দেশনায় চিন ও ভারত একযোগে কাজ করবে। মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দিয়ে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলব। একে অপরের সাফল্যে আমরা সহযোগী হয়ে উঠব।”

বেজিংয়ের এই অবস্থান বদল সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে ঢাকাকে। চলতি বছরের গোড়ায় পাকিস্তানের ভরসায় টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে চরম বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ; পরে পাকিস্তান ঠিকই খেলায় অংশ নেয়। ঠিক একইভাবে, এবারও চিনের ওপর ভরসা করে শি জিনপিং ভারতে আসবেন না ধরে নিয়ে ব্রিক্‌স সম্মেলন এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। কিন্তু চিনা প্রেসিডেন্ট নিজেই ভারতের মাটিতে পা রাখায় বাংলাদেশের অবস্থাও এখন ‘আম ও ছালা দুটোই খোয়ানো’র মতো। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনের ভরসায় থাকা ঢাকা ও ইসলামাবাদকে এক লহমায় চরম চাপে ফেলে দিল বেজিং।

একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর সফল আলোচনা, অন্যদিকে জিনপিংয়ের সঙ্গে মেগা বৈঠক, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের সঙ্গে ভারতের এই কৌশলগত মেলবন্ধন যে কেবল বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নয়, বরং ওয়াশিংটনের নজরকেও তীব্র ভাবে আকর্ষণ করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews #XiJinpingInIndia #PMModi #ModiJinpingMeet #BRICSSummit2026 #IndiaChinaRelations #KolkataNews #BengaliNews #HiddenStoriesNews #BreakingNewsBangla #Geopolitics #BangladeshDiplomacy #SouthAsiaNews #IndiaChinaDiplomacy #TrendingBengaliNews #InternationalRelations

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


BRICS Summit : ভারতে আসার আগেই বেজিংয়ের বার্তা, একযোগে তীব্র চাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বেজিং: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কূটনৈতিক টানাটানির অবসান ঘটিয়ে ব্রিক্‌স (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। কিন্তু চিনা প্রেসিডেন্ট দিল্লির মাটিতে পা রাখার আগেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল কূটনৈতিক বিশ্ব। ভারতে রওনা দেওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সুদৃঢ় বার্তা দিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। বেজিংয়ের এই পদক্ষেপ কার্যত একযোগে চরম কূটনৈতিক চাপে ফেলে দিল দুই প্রতিবেশী দেশ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে।২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারতে আসছেন জিনপিং। ২০২০ সালে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ডোকলাম বিতর্ক এবং অরুণাচল নিয়ে চরম উত্তেজনার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে সেই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল শুক্রবার রাতে। ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং সমাজমাধ্যমে নিশ্চিত করেন, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। কাজান এবং তিয়ানজিনের পর এটি টানা তৃতীয় বছর তাঁদের সাক্ষাৎ।চিনা রাষ্ট্রদূতের বার্তায় স্পষ্ট, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট জিনপিঙের কৌশলগত নির্দেশনায় চিন ও ভারত একযোগে কাজ করবে। মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দিয়ে আমরা দীর্ঘমেয়াদি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলব। একে অপরের সাফল্যে আমরা সহযোগী হয়ে উঠব।”বেজিংয়ের এই অবস্থান বদল সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে ঢাকাকে। চলতি বছরের গোড়ায় পাকিস্তানের ভরসায় টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে চরম বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ; পরে পাকিস্তান ঠিকই খেলায় অংশ নেয়। ঠিক একইভাবে, এবারও চিনের ওপর ভরসা করে শি জিনপিং ভারতে আসবেন না ধরে নিয়ে ব্রিক্‌স সম্মেলন এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকার। কিন্তু চিনা প্রেসিডেন্ট নিজেই ভারতের মাটিতে পা রাখায় বাংলাদেশের অবস্থাও এখন ‘আম ও ছালা দুটোই খোয়ানো’র মতো। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনের ভরসায় থাকা ঢাকা ও ইসলামাবাদকে এক লহমায় চরম চাপে ফেলে দিল বেজিং।একদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর সফল আলোচনা, অন্যদিকে জিনপিংয়ের সঙ্গে মেগা বৈঠক, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের সঙ্গে ভারতের এই কৌশলগত মেলবন্ধন যে কেবল বাংলাদেশ বা পাকিস্তান নয়, বরং ওয়াশিংটনের নজরকেও তীব্র ভাবে আকর্ষণ করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত